নতুন কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতি বা এনইপি কার্যকর হলে তা একযোগে ভারতের মধ্যে অজস্র টুকরো টুকরো ভারতের মেলবন্ধন ঘটাবে বলে আশ্বাস দিলেন ইউজিসি-র প্রাক্তন চেয়ারপার্সন তথা জাতীয় শিক্ষানীতি রূপায়ণ সংক্রান্ত তদারকি কমিটির কর্তা মামিডালা জগদেশ কুমার। পশ্চিমবঙ্গে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের এনইপি রূপায়ণ সংক্রান্ত টাস্কফোর্সের উপদেষ্টা হিসেবে মঙ্গলবার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের উদ্দেশে বার্তা রাখেন তিনি। জগদেশ কুমারের কথায়, “শিক্ষার ভারতীয় শিকড়কে মেলে ধরেই বিশ্ব মান সুনিশ্চিত করতে চায় এনইপি-২০২০। দেশের নানা জনের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিতেই শিক্ষাব্যবস্থায় এই সংস্কার। কেউ সরকারি চাকরি, কেউ ব্যবসা, কেউ অন্য চাকরি করতে চায়। নানা ছক-ভাঙা পেশা, প্রযুক্তির মিশেলে সাবেক পেশার সুযোগ আনতেও তৎপর এই ব্যবস্থা।”
উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ও বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে এনইপি রূপায়ণে সজাগ করার পরে কলেজগুলিকেও এ বিষয়ে তালিম দেওয়া হবে।” চার বছরের স্নাতক শিক্ষাক্রম, এক বছরের স্নাতকোত্তর এবং গবেষণা পর্বের গঠন নিয়েও এ দিন আলোচনা হয়েছে। কোনও কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বা সংশ্লিষ্ট আধিকারিক অবশ্য মনে করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক পরিকাঠামোর প্রসার ছাড়া এনইপি রূপায়ণের উচ্চাভিলাষ পুরোটা মেটা কঠিন। দেশে প্রথম এনইপি রূপায়ণের শরিক লখনউ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য তথা আইআইএম কলকাতার ডিরেক্টর অলোককুমার রাই, মুম্বই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রবীন্দ্র কুলকার্নি প্রমুখ তাঁদের দিকনির্দেশ দেন। উচ্চশিক্ষামন্ত্রী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে এত দিন নামমাত্র এনইপি রূপায়ণ হয়েছিল। কিন্তু এখন আমাদের সামনে সুযোগ, দেশের অন্যত্র বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞতা থেকে শেখার। যারা অনেকটা এগিয়ে গিয়েছে, তাদের সাফল্য, ব্যর্থতা থেকে শিখে আগামীর পথ চলা ঠিক হবে।”