E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

কাশ্মীরে এনকাউন্টার বিতর্কে তদন্তের নির্দেশ

গত ৩১ মার্চ আরহামার জঙ্গল এলাকায় সেনাবাহিনীর ২ আসাম রাইফেলস, ২৪ রাষ্ট্রীয় রাইফেলস, সিআরপিএফের ৪৯ ব্যাটালিয়ন এবং জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের গান্ডেরবাল ইউনিট যৌথ ভাবে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছিল।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৪৮
মনোজ সিন‌হা।

মনোজ সিন‌হা। ছবি: সংগৃহীত।

জম্মু-কাশ্মীরের গান্ডেরবালে যৌথবাহিনীর অভিযানে এক ব্যক্তির নিহত হওয়াকে কেন্দ্র করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ওই ব্যক্তির সঙ্গে কোনও জঙ্গি-যোগ ছিল না। তাঁকে ভুয়ো এনকাউন্টারে হত্যা করা হয়েছে। ওই ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছে ওই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রধান শাসক দল ন্যাশনাল কনফারেন্স (এনসি) এবং বিরোধী দল পিপ্‌সল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি(পিডিপি)। এই পরিস্থিতিতে ঘটনার ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন উপরাজ্যপাল মনোজ সিন‌র্হা। ভুয়ো এনকাউন্টারের অভিযোগ ওঠায় ক্ষুব্ধ কেন্দ্রীয় সরকারও।

গত ৩১ মার্চ আরহামার জঙ্গল এলাকায় সেনাবাহিনীর ২ আসাম রাইফেলস, ২৪ রাষ্ট্রীয় রাইফেলস, সিআরপিএফের ৪৯ ব্যাটালিয়ন এবং জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের গান্ডেরবাল ইউনিট যৌথ ভাবে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছিল। তাতে গান্ডেরবাল জেলার লার এলাকার চুন্তওয়ালিওয়ার গ্রামের বাসিন্দা রশিদ আহমদ মুগল নিহত হন। সেনাবাহিনীর দাবি, ওই ব্যক্তির সঙ্গে জঙ্গিদের যোগাযোগ ছিল। এর পরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে থাকে। ওই হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরব হয় উপত্যকার রাজনৈতিক দলগুলি। এমতাবস্থায় আজ উপরাজ্যপাল এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করেছেন, ‘গান্ডেরবালের আরহামার ঘটনার পূর্ণাঙ্গ এবং নিরপেক্ষ ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এই তদন্ত গোটা ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখবে’। সরকারি নির্দেশে বলা হয়েছে, বিষয়টি পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং সেই অনুযায়ী জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে অনুরোধ করা হচ্ছে যে, রশিদ আহমদ মুগলের মৃত্যুর ঘটনা ও পরিস্থিতির সত্যতা নির্ধারণের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তকরা হোক।

মুগলের পরিবারের দাবি, তিনি একজন সাধারণ নাগরিক ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে কোনও জঙ্গি সংগঠনের সম্পর্ক ছিল না। যদিও সেনাবাহিনী সূত্রের অভিযোগ, নিহতের এক দাদার সঙ্গে জঙ্গি সংগঠনগুলির ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। সে বর্তমানে পাকিস্তানে। সেনাবাহিনীর দাবি, ওই এনকাউন্টার স্থল থেকে একটি একে-৫৬ রাইফেল, তিনটি ম্যাগাজিন, ৬৭টি তাজা গুলি এবং ৫৮টি খালি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা এই ঘটনার স্বচ্ছ ও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তদন্ত এবং সত্য জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানান। একই দাবি পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতিরও।

গোটা ঘটনায় ক্ষুব্ধ মোদী সরকার। সূত্রের খবর, কাশ্মীর যখন শান্ত তখন এই ধরনের ভুয়ো এনকাউন্টারের অভিযোগ সরকার ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাচ্ছে এবং উপত্যকায়ও ভুল বার্তা যাচ্ছে। ওই সূত্রটি জানাচ্ছে, ওই অভিযানের নেতৃত্বে ছিল অসম রাইফেল্‌স। ওই বাহিনীকে সম্ভবত সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। একটি নিরাপত্তা সংক্রান্ত বৈঠকে যোগ দিতে সম্প্রতি জম্মু-কাশ্মীরে যাওয়ার কথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের। তার আগে এমন ঘটনায় অস্বস্তিতে সরকার।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
jammu kashmir encounter case

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy