এমনিতেই ছাত্রছাত্রীদের বিক্ষোভ-আন্দোলন মোদী সরকারের কাছে মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে। তার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে সদ্য ক্ষমতায় আসা শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের কাছেও গোটা বিশ্ব থেকে বিজ্ঞানী- গবেষকদের কাছে আপত্তি জমা পড়ছে। দু’দিক মাথায় রেখে ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিকাল ইনস্টিটিউট বিল নিয়ে কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান মন্ত্রক এখন আর এগোতে চাইছে না। বিস্তারিত আলোচনার জন্য এই বিল লোকসভার সিলেক্ট কমিটি বা অর্থ মন্ত্রকের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কাছে পাঠানো হতে পারে।
সরকারি সূত্রের খবর, মঙ্গলবার এনডিএ-র সংসদীয় দলের বৈঠকের সময় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু সাংসদদের একথা জানিয়েছেন।
গত সপ্তাহে কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান মন্ত্রক ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিকাল ইনস্টিটিউট বা আইএসআই-এর পরিচালন ব্যবস্থার খোলনলচে পাল্টাতে নতুন বিল লোকসভায় পেশ করেছিল। নেহরু জমানার আইন তুলে দিয়ে মোদী সরকারের নতুন বিলে আইএসআই-তে আইআইটি, আইআইএম ধাঁচের পরিচালন ব্যবস্থা চালু করার কথা ছিল। কলকাতায় আইএসআই-এর শিক্ষক-ছাত্র-গবেষকরা এর বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছিলেন।
প্রতিষ্ঠানের ডিরেক্টর নিজে এর বিরোধিতা করে পরিসংখ্যান মন্ত্রীকে চিঠি লিখেছিলেন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তর কাছেও আইএসআইয়ের বিজ্ঞানীদের আপত্তি জমা পড়েছে। বাংলায় সদ্য ক্ষমতায় আসা সরকারের বিরুদ্ধে উচ্চশিক্ষিত সমাজের ক্ষোভ তৈরি হোক, সেটা এখন বিজেপি চাইছে না। তাই ধীরে চলো নীতির কথাভাবা হচ্ছে।
আইএসআই-এর পড়ুয়াদের সকলের নিখরচায় শিক্ষা, বৃত্তির ব্যবস্থা তুলে দিতে চাইছিল পরিসংখ্যান মন্ত্রক। কলকাতায় সদর দফতর থাকবে কি না তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। আইএসআই-এর অধ্যাপকরা প্রতিষ্ঠানের স্বশাসন খর্ব হওয়া, মৌলিক গবেষণায় ধাক্কা লাগার অভিযোগ তোলেন।
সংসদে সৌগত রায়, প্রতিমা মণ্ডল, জয়রাম রমেশ, মণীশ তিওয়ারি, জন ব্রিট্টাস থেকে শুরু করে সব বিরোধী দলের সাংসদরাই এর বিরোধিতা করেছিলেন। সব দিক দেখেই মোদী সরকার এই বিল সংসদীয় কমিটিতে পাঠানোরকথা ভাবছে।
তৃণমূল সাংসদ সাগরিকা ঘোষ বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের ভোটে জিতে আগ্রাসী মেজাজে সরকার সংসদের বাদল অধিবেশনে এসেছিল। পরিস্থিতি উল্টে গিয়ে মোদী সরকার ব্যাকফুটে চলে গিয়েছে। আসনপুনর্বিন্যাস, এফসিআরএ বিল তো দূরে থাক, বিকশিত ভারত শিক্ষাঅধিষ্ঠান বিলও নতুন করে সংসদে পেশ হয়নি।’’