রাজস্থানের জয়পুরে একই পরিবারের চার সদস্যের হত্যাকাণ্ডে নয়া তথ্য। পড়শি এবং আত্মীয়দের দাবি, বৃহস্পতিবার রাতে, এমনকি শুক্রবার সকালেও কোনও চিৎকার শোনা যায়নি। বাড়িতে যে চার জন মানুষ খুন হয়ে গিয়েছেন, পড়শিরা তো বটেই, এমনকি পাশের ঘরে বৃদ্ধ বাবাও টের পাননি।
পুলিশ সূত্রে খবর, স্ত্রী এবং তিন কন্যাকে খুনের পর রাহুল দাড়ি কাটেন। স্নান করেন। তার পর দুধওয়ালার কাছ থেকে দুধ নেন। বাবাকে জিজ্ঞাসা করেন চা খাবেন কি না। তাঁকে চা বানিয়ে দেন। তার পর নিঃশব্দে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যান। রাহুলের বাবা লক্ষ্মীনাথ অসুস্থ। নাতনি এবং পুত্রবধূর অনেক ক্ষণ কোনও সাড়াশব্দ পাচ্ছিলেন না। তাই পাশের ঘর থেকে কোনও রকমে উঠে ছেলের ঘরে যান। গিয়ে দেখেন তিন নাতনি এবং বৌমা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে। ওই দৃশ্য দেখে তিনি আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁর চিৎকারে পাশের বাড়িরই এক জন ছুটে আসেন।
ওই মহিলা টাইমস অফ ইন্ডিয়া-কে বলেন, ‘‘কাকুর চিৎকার শুনে ছুটে যাই। ঘরে ঢুকে দেখি চার জন পড়ে রয়েছে। ভয়ানক সেই দৃশ্য দেখে আমিই জ্ঞান হারিয়ে ফেলছিলাম।’’ তার পর আশপাশের লোকজনই পুলিশকে খবর দেন। এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে অনেকগুলি সম্ভাবনা দেখছে পুলিশ। পারিবারিক কলহ, আর্থিক অনটনকেই প্রাথমিক কারণ হিসেবে মনে করছেন তদন্তকারীরা। তবে রাহুল এবং তাঁর স্ত্রী গীতার পরিবারের দাবি, দম্পতির মধ্যে কোনও দিন অশান্তি হয়নি। রাহুলের ভাইঝি সিমরনের দাবি, বৃহস্পতিবার রাতেও কাকিমার সঙ্গে ভিডিয়ো কলে কথা হয়েছিল। কোনও অস্বাভাবিকতা লক্ষ করেননি।
সিমরন জানিয়েছেন, গীতা বিউটি পার্লার চালাতেন। তাঁর বড় কন্যা নন্দিনী সম্প্রতি একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরিতে যোগ দেন। রাহুলের একটা ছোট ব্যবসা রয়েছে। এ ছাড়া শেয়ার বাজারেও বিনিয়োগ করেন। সিমরনের কথায়, ‘‘ভাবতেই পারছি না কাকা এই কাণ্ড ঘটিয়েছে।’’ একই বাড়ির চার জন খুন হয়ে গেলেন, অথচ আশপাশের কেউ টের পেলেন না কেন? এই প্রশ্নই ভাবাচ্ছে তদন্তকারীদের। তা হলে কি এটি পরিকল্পিত খুন? স্ত্রী, কন্যাদের খাবারে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দিয়েছিলেন রাহুল? সব সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। রাহুলের খোঁজে কয়েকটি দল গঠন করে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। এসিপি শিবকুমার ভরদ্বাজ জানিয়েছেন, রাহুলকে গ্রেফতার করা গেলেই খুনের আসল কারণ জানা সম্ভব হবে।