জম্মু ও কাশ্মীরে হিন্দু পণ্ডিতদের উপর ধারাবাহিক হুমকির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করলেন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটির মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। সোমবার তিনি বলেন, ‘‘এমন হুমকি নিন্দনীয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে যেন কোনও অবস্থাতেই পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলি হালকা ভাবে না নেই। হুমকিগুলির উৎস চিহ্নিত করতে হবে। কাশ্মীরি পণ্ডিতদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের দায়িত্ব।’’
রবিবার জম্মুর বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী ছ’জন কাশ্মীরি পণ্ডিতের নাম, ঠিকানা উল্লেখ করে তাঁদের ‘হোয়াইট কলার টেররিস্ট’ এবং ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছিল সমাজমাধ্যমে। ওই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ওমর বলেন, ‘‘এটি খুবই উদ্বেগের বিষয়।’’ সেই সঙ্গে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্যমন্ত্রী ওমর মনে করিয়ে দিয়েছেন, জম্মু ও কাশ্মীরের পুলিশের ভার তাঁর সরকারের নয়, লেফটেন্যান্ট গর্ভনরের হাতে ন্যস্ত। ঘটনাচক্রে, সোমবারই ১৯৯৮ সালের ওয়ানধামা হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু করেছে জম্মু ও কাশ্মীরের গোয়েন্দা দফতর। ওই হত্যাকাণ্ডের বলি হয়েছিলেন ২৩ জন হিন্দু পণ্ডিত।
আরও পড়ুন:
গত তিন বছর ধরে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের বেছে বেছে খুন করার কৌশল নিয়েছে উপত্যকার জঙ্গি সংগঠনগুলি। লশকর-এ-ত্যায়বা, জইশ-এ-মহম্মদের মতো পাক মদতপুষ্ট পরিচিত সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর পাশাপাশি পণ্ডিত খুনের ঘটনায় উঠে এসেছে কাশ্মীর ফ্রিডম ফাইটার (কেএফএফ), লশকর-এ-ইসলাম, কাশ্মীর টাইগার্স, ‘কাশ্মীর ফাইট’-এর মতো নামের আনকোরা জঙ্গি সংগঠনের নামও। এমনকি, একাধিক বার সন্ত্রাসের ভয়ে ঘরছাড়া কাশ্মীরি পণ্ডিতদের আশ্রয় শিবিরগুলি (ট্রানজিট কলোনি)-কে ‘কবরখানা’ বানানোরও হুমকি দেওয়া হয়েছে সন্ত্রাসবাদীদের তরফে। ওমরের সোমবারের মন্তব্য পুরনো সেই প্রসঙ্গও এসেছে।