গরু পাচারকারী সন্দেহে জম্মু-কাশ্মীরের ডোডা জেলায় পুলিশের গুলিতে চিকা গ্রামের বাসিন্দা ৩০ বছরের আরিফ হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় শুরু হয়েছে তুমুল বিক্ষোভ। শনিবার ডোডা এবং কিস্তোয়ারে আংশিক বন্ধ পালিত হয়। বেশির ভাগ দোকানপাটই বন্ধ ছিল। তবে যান চলাচল স্তব্ধ হয়নি।
এমন পরিস্থিতিতে ডোডায় ইন্টারনেট, ওয়াইফাই ও সমস্ত ব্রডব্যান্ড পরিষেবা বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন জম্মু-কাশ্মীরের আইজিপি।
গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ ভাদেরওয়াহ থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে জঙ্গি গতিবিধির খবর পেয়ে অভিযান চালিয়েছিল জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ। টহলদারির সময়ে আরিফকে তাঁর দুই সঙ্গী রহমাতুল্লা ও সাজ্জাদ আহমেদের সঙ্গে দেখে সন্দেহ হয় পুলিশের। তাঁদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
পুলিশের এক আধিকারিকের দাবি, আরিফ তাঁদের উপরে হামলা চালান এবং রাইফেল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। সেই সময়ে জওয়ানের পাল্টা গুলিতে আহত হন তিনি। আরিফকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান, তাঁর মৃত্যু হয়েছে। ওই হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর তিন জন জখম হন বলেও দাবি করা হয়েছে।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে আরিফের পরিবার। তাদের দাবি, পেশায় অটোচালক আরিফ একটি অনুষ্ঠান থেকে ফিরছিলেন। তাঁকে ধরে নিয়ে গিয়ে ঠান্ডা মাথায় খুন করা হয়। ভাদেরওয়াতে শেষকৃত্য চলাকালীন এ দিন ব্যাপক প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা ঘটনার সিবিআই তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবিতে সরব হন। ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন উপত্যকার সিপিএম নেতা এম ওয়াই তারিগামি। সমাজমাধ্যমে জানিয়েছেন, ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ এবংস্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন।