প্রথম বার ভারতের মাটি থেকে উড়ল জাপানি বায়ুসেনার যুদ্ধবিমান। ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রতিরক্ষার সমীকরণ জোরদার করতে আরও এক ধাপ এগোল ভারত ও জাপান। দ্বিপাক্ষিক সামরিক সহযোগিতার ইতিহাসে এটি একটি বড় মাইলফলক, এমনটাই জানিয়েছেন ভারতীয় বায়ুসেনা প্রধান এপি সিংহ।
রাজস্থানের জোধপুর বিমানঘাঁটিতে গত ৯ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে ভারত ও জাপানের যৌথ আকাশ মহড়া ‘বীর গার্ডিয়ান-২০২৬’। চলবে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এই মহড়াতেই যোগ দিয়েছে জাপানের বায়ুসেনার ‘এফ-২এ’ ফাইটার জেট। পাশাপাশি ভারতের তরফে রয়েছে ‘তেজস’, ‘সুখোই-৩০ এমকেআই’ এবং ‘রাফাল’-এর মতো প্রথম সারির যুদ্ধবিমান। রবিবার মহড়া চলাকালীন রাজস্থানের আকাশে তৈরি হয় এক বিশেষ মুহূর্ত। ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি হালকা যুদ্ধবিমান ‘তেজস’-এ সওয়ার হন জাপান এয়ার সেল্ফ-ডিফেন্স ফোর্সের চিফ অব স্টাফ জেনারেল তাকেহিরো মোরিতা। অন্য দিকে, একক ভাবে (সোলো) তেজস উড়িয়ে আকাশে চক্কর কাটেন ভারতের বায়ুসেনা প্রধানও। মহড়াশেষে একে অপরের সঙ্গে ব্যাজ বিনিময় করে দুই বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার বার্তাও দেন।
আরও পড়ুন:
মহড়াশেষে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এয়ার চিফ মার্শাল এ পি সিংহ জানান, জাপানি যুদ্ধবিমান ভারতে এসে সরাসরি মহড়ায় যোগ দিয়েছে, এটি ভারত-জাপান সম্পর্কের ইতিহাসে প্রথম বার। এই যৌথ অনুশীলন দুই বাহিনীর মধ্যে আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখার যৌথ অঙ্গীকারকে আরও মজবুত করবে। তিনি বলেন, “একসঙ্গে মহড়া দিলে একে অপরের কাজের পদ্ধতি শেখার সুযোগ থাকে। এতে দুই পক্ষেরই দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।”
একই সুর শোনা গিয়েছে জাপানি বায়ুসেনা প্রধানের গলাতেও। তিনি জানান, ভারতীয় মাটিতে জাপানি ফাইটার জেটের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে প্রয়োজনে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল জুড়ে বায়ুসেনা মোতায়েন করতে তারা প্রস্তুত। তেজস-এ ওড়ার অভিজ্ঞতাকে ‘অমূল্য’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “তেজস ভারতের প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের এক উজ্জ্বল প্রতীক। আগামী দিনে এটি দুই দেশের বায়ুসেনার কাছেই বিশ্বাস ও বন্ধুত্বের প্রতীক হয়ে রয়ে যাবে।”
১৪ দিনের এই মহড়ায় আকাশসীমা রক্ষা, উন্নত বিমান কৌশল এবং অভিযানের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছেন দুই দেশের বাহিনী। পাশাপাশি আলোচনা চলছে প্রযুক্তিগত রক্ষণাবেক্ষণ এবং বায়ুমণ্ডলের নিরাপত্তা নিয়েও। ভারতের নিজস্ব যুদ্ধবিমান কর্মসূচি প্রসঙ্গে বায়ুসেনা প্রধান জানান, বিপুল সংখ্যক তেজস বিমানের বরাত দেওয়া হলেও বিশ্বব্যাপী সাপ্লাই-চেন বা সরবরাহ শৃঙ্খলের সমস্যায় সরবরাহে কিছুটা বিলম্ব ঘটেছে। তবে পরবর্তী প্রজন্মের তেজস মার্ক-২ এবং অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফট (এএমসিএ) প্রস্তুত হলে ভারতের প্রতিরক্ষাপ্রযুক্তি আরও উচ্চতায় পৌঁছোবে বলে আশাপ্রকাশ করেন তিনি।