ঝাড়খণ্ডে ছাত্রবিক্ষোভের মাঝে অবশেষে নমনীয় হল হেমন্ত সোরেনের সরকার। রাজি হল আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলতে। বিক্ষোভকারীদের একটি প্রতিনিধিদল তৈরি করতে বলা হয়েছে। হেমন্তের সরকারও আন্দোলনরত পড়ুয়াদের সঙ্গে আলোচনার জন্য একটি প্যানেল গঠন করছে। তবে পড়ুয়ারা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, বন্ধ দরজায় আড়ালে কোনও কথা হবে না। আলোচনা যা করার, তা প্রকাশ্যেই করতে হবে।
দিল্লির ছাত্রবিক্ষোভ স্তিমিত হতে না-হতেই ঝাড়খণ্ডে শুরু হয়েছে পড়ুয়াদের অবস্থান-বিক্ষোভ। এ বার ছাত্র-যুবকদের নিশানায় অবিজেপি সরকার। ঝাড়খণ্ডের পিএসসি এবং এসএসসি-সহ বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে আন্দোলন শুরু করেছেন পড়ুয়ারা। গত ৫ জুলাই ঝাড়খণ্ডের পিএসসি প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফলপ্রকাশ হয়। তার পর থেকেই এই অনিয়মের অভিযোগ উঠে আসতে শুরু করে। চাকরির পরীক্ষার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং সরকারের জবাবদিহি দাবি করতে থাকেন পড়ুয়ারা। এই নিয়ে গত ২৯ জুলাই থেকে রাঁচীর জয়পাল সিংহ মুন্ডা স্টেডিয়ামে চলছে অবস্থান বিক্ষোভ। শয়ে শয়ে পড়ুয়া শামিল হয়েছেন ওই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে। গত পাঁচ দিন ধরে অনশনে রয়েছেন আন্দোলনকারী ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র মাহাতোও।
ছাত্র-যুবকদের এই আন্দোলনের চাপে অবশেষে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে হেমন্তের সরকার। পড়ুয়াদের সঙ্গে আলোচনার জন্য একটি প্যানেল গঠন করছে ঝাড়খণ্ড সরকার। ওই প্যানেলে থাকছেন মন্ত্রী এবং সরকারি আধিকারিকেরা।
বুধবার রাঁচীর মহকুমাশাসক কুমার রজত বিক্ষোভস্থলে যান। আন্দোলনরত পড়ুয়াদের সঙ্গে একদফা কথা বলেন তিনি। জানান, সরকার তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী। এ অবস্থায় বিক্ষোভকারীদের পাঁচ-সাত জনের একটি প্রতিনিধিদল তৈরির পরামর্শ দেন তিনি। মহকুমাশাসক তাঁদের আশ্বস্ত করেন, সরকার প্রতিটি বিষয় নিয়ে আলোচনায় বসতে রাজি। তবে আন্দোলনরত পড়ুয়ারাও বুঝিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা রুদ্ধদ্বার আলোচনায় বসবেন না। তাঁদের দাবি, যা আলোচনা হবে তা প্রকাশ্যেই হতে হবে। তাঁরা চাইছেন, সংবাদমাধ্যমের সামনেই আলোচনা হোক।
আরও পড়ুন:
বৃহস্পতিবার সকালে অনশনরত ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র জানিয়েছেন, তাঁরা শীঘ্রই আলোচনার জন্য প্রতিনিধিদল ঘোষণা করবেন। তবে দাবিদাওয়া পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অনশন এবং আন্দোলনও চলতে থাকবে বলে হেমন্তের সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন তিনি।
দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) ইতিমধ্যে ঝাড়খণ্ডের ছাত্রবিক্ষোভে সংহতির বার্তা দিয়েছে। বুধবার সিজেপি-র প্রধান মুখেদের বৈঠকের আগে অভিজিৎ দীপকে জানান, সিজেপি-র প্রতিনিধিরাও ঝাড়খণ্ডে যাবেন। চাকরিপ্রার্থী ছাত্র-যুবকদের আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছেন তিনি। তবে ঝাড়খণ্ডের ছাত্রবিক্ষোভে রাহুল গাঁধীর নীরবতা নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে বিজেপি।