E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

ইরানের যুদ্ধ-বিরোধী বিবৃতিতে সই দিল্লির

কূটনৈতিক শিবিরের মতে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল যৌথ ভাবে ইরানের উপরে হামলা শুরুর পর থেকে এখনও পর্যন্ত এত স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন কোনও বিবৃতিতে নিজের সিলমোহর দেয়নি মোদী সরকার।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:২৭

—প্রতীকী চিত্র।

ইজ়রায়েল এবং আমেরিকার নাম করা হয়নি। কিন্তু যথেষ্ট কড়া ভাবেই ইরানের উপরে সামরিক অভিযানের নিন্দা করা হয়েছে সদ্যসমাপ্ত এসসিও সম্মেলনের যৌথ বিবৃতিতে। ইরানের উপরে হামলা-বিরোধী যে অংশটি এই বিবৃতিতেরাখা হয়েছে, তাকে সমর্থন জানিয়েছে দশটি সদস্য রাষ্ট্র, যার মধ্যে ভারতও রয়েছে। বলা হয়েছে, ‘এসসিও তার পূর্বতন অবস্থানকেই পুনরুচ্চারিত করে ইরানের ভূখণ্ডে সামরিক হামলার কড়া নিন্দা করছে। এই হামলায় নিরীহ মানুষের প্রাণ গিয়েছে, অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে। এই আক্রমণ আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রপুঞ্জের সনদকে লঙ্ঘন করে আন্তর্জাতিক শান্তি, স্থিতি ও নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করে।’

কূটনৈতিক শিবিরের মতে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল যৌথ ভাবে ইরানের উপরে হামলা শুরুর পর থেকে এখনও পর্যন্ত এত স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন কোনও বিবৃতিতে নিজের সিলমোহর দেয়নি মোদী সরকার। বরং বিরোধীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে এটাই বলেছে, ইজ়রায়েল সম্পর্কে গাজ়া এবং ইরানে বারবার মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ উঠলেও, সে ভাবে সরব হয়নি কেন্দ্রীয় সরকার। কৌশলগত অংশীদার আমেরিকার বিরুদ্ধেও ইরান সম্পর্কে কোনও অবস্থান নিতে দেখা যায়নি ভারতকে। প্রশ্ন উঠছে, তা হলে এখন কি নিজেদের অবস্থান বদল করছে নয়াদিল্লি? প্রশ্নের উত্তর একই সঙ্গে ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’— জানাচ্ছে কূটনৈতিক সূত্র। ‘না’ কারণ, গত সেপ্টেম্বরে চিনের তিয়াংজিং-এ এসসিও-র যৌথ বিবৃতিতে সেই বছর জুন মাসে ইরানের ইস্পাহান, নাতাঞ্জে-সহ মোট তিনটি পরমাণু কর্মশালায় ইজ়রায়েল এবং আমেরিকার যৌথ আক্রমণকে কেন্দ্র করে তাদের নাম করে নিন্দা করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, ‘ইজ়রায়েল এবং আমেরিকার করা ইরানের উপর সামরিক হামলার কড়া নিন্দা করছে এসসিও। বিষয়টি ইরানের সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনকে লঙ্ঘন করছে।’ ফলে ভারত যে ইরানের পাশে দাঁড়িয়ে আমেরিকা ও ইজ়রায়েল-বিরোধী বিবৃতিতে হস্তাক্ষর করল এমনটা সাম্প্রতিক অতীতে প্রথম নয়।

প্রায় ৭ মাস কার্যত নীরব থাকার পরে বিশকেকে গিয়ে কেন ইরানের পাশেপ্রকাশ্যে দাঁড়াল ভারত? কূটনৈতিক শিবিরের মতে, সামনেই নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন এবং তার সাফল্য ভারতের কূটনৈতিক ভাবমূর্তির জন্য জরুরি। সেই সাফল্য নির্ভর করছে সবার, বিশেষ করে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের যোগ দেওয়ার উপরে। তাঁর স্বরে স্বর মেলানো ভারতের কাছে জরুরি। এসসিও মূলত বেজিং ও মস্কো পরিচালিত একটি ক্লাব, যার বিবৃতির দায় মূলত যে ওই দু’টি দেশের উপর বর্তাবে। কিন্তু এ বার ব্রিকস-এর সভাপতি ভারত, ফলে তার দায় রয়েছে সুষ্ঠু ভাবে সম্মেলন পরিচালনার পাশাপাশি একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশের। এটাই দেখার, সেই ব্রিকস বিবৃতি প্রকাশ করা যায় কি না (কারণ দুই যুযুধান সদস্য ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি), এবং করলেও তাতে চিনের চাপে বিশকেকের মতো ইরান প্রশ্নে আমেরিকা, ইজ়রায়েল-বিরোধী বিবৃতি থাকে কি না। কূটনৈতিক শিবিরের মতে, সেই সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।

বিদেশ মন্ত্রকের নিন্দা: পাকিস্তানের নারোয়াল জেলায় সম্প্রতি একটি উপাসনাস্থল ধ্বংস করা হয়। সেই খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করে বুধবার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জায়সওয়াল বলেন, “শতাব্দীপ্রাচীন উপাসনাস্থলে এই নিন্দনীয় ভাঙচুরের ঘটনার আমরা দ্ব্যর্থহীন ভাবে নিন্দা জানাচ্ছি। পাকিস্তান সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, এই ঘটনার দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Indian Diplomacy Iran America Relation

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy