দিল্লির মাটি থেকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করলেন, জোর করে তৃণমূলকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্য দিকে, দিল্লি থেকেই তৃণমূল নেত্রীকে পাল্টা নিশানা করলেন ইন্ডিয়া মঞ্চের অন্যতম শরিক এসপি-র সহ-সভাপতি কিরণময় নন্দ। পশ্চিমবঙ্গে তিন দশক ধরে বামফ্রন্টের মন্ত্রী থাকা এই নেতার বক্তব্য, “আমরা যদিও ইন্ডিয়া জোটে রয়েছি, কিন্তু এই জোটের সবচেয়ে ক্ষতি যদি কেউ করে থাকেন, তি নি তৃণমূল নেত্রী। ২০১১ সালে জিতে আসা এসপি বিধায়ককে (চাঁদ মহম্মদ) ২০১৪ সালে তাঁর দল তৃণমূলে যোগ দিতে বাধ্য করে। এ ভাবে কংগ্রেস এবং সিপিএম বিধায়কদেরও ভয় দেখিয়ে, জোর খাটিয়ে এক সময়ে নিজের দলে নাম লেখাতে বাধ্য করেছেন মমতা। আজ তিনি দায়ে পড়ে রাহুল গান্ধীর পাশে বসে, সনিয়ার পিঠ চাপড়ানি উপভোগ করছেন। কিন্তু ২০২১ সালে রাহুল গান্ধী যখন তাঁর মৈত্রী যাত্রা নিয়ে মুর্শিদাবাদে পৌঁছন, তাঁর গাড়ি ঢিল মেরে ভেঙেছিল তৃণমূল। যাত্রার অনুমতিও দেওয়া হয়নি।”
গত কয়েক বছর ধরে এসপি নেতা অখিলেশ যাদব সব সময়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থেকেছেন। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর তিনিই প্রথম ছুটে গিয়েছিলেন কালীঘাটে। তা হলে কি পিতৃবন্ধু কিরণময়ের সঙ্গে তৃণমূল নীতির প্রশ্নে অখিলেশের মতানৈক্য রয়েছে? কারণ সেই সময়ে কলকাতায় থাকলেও তিনি অখিলেশের সঙ্গে মমতার বাড়ি যাননি। সূত্রের খবর, অখিলেশকে কিরণময় যেতে নিষেধ করেছিলেন এই বলে যে, রাজ্যের জনতা দুর্নীতির বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে। ফলে তৃণমূলের সঙ্গে সমীকরণ তৈরি করলে তা উত্তরপ্রদেশের মানুষ ভাল ভাবে নেবেন না। এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কিরণময় বলেন, “আমি অখিলেশজিকে নিষেধ করেছিলাম। তিনি এখন আমাদের জানিয়েছেন, ভোটের আগে আর এমন কোনও পদক্ষেপ করবেন না, যা স্থানীয় আবেগের বিরুদ্ধে যায়। এই মুহূর্তে উত্তরপ্রদেশের ভোট আমাদের পাখির চোখ। ইন্ডিয়া জোট বা মুখ্য নির্বাচন কমিশনার অগ্রাধিকার নয়। আমাদের রাজ্যের নির্বাচনী বিষয় আলাদা। এখানে সংখ্যালঘুদের নাম এসআইআর-এ বাদ যায়নি, বরং বিজেপি তাতে সমস্যায় পড়েছে। তা ছাড়া মমতার সঙ্গে অখিলেশের সখ্য বা দেখা করতে যাওয়া রাজনৈতিক কারণে। বিজেপি বিরোধিতার প্রশ্নে কংগ্রেস কোথাও ‘আপারহ্যান্ড’ পাক, এটা আমরা চাই না। আমাদের সঙ্গে তৃণমূলের কোনও লেনদেন নেই।” পাশাপাশি তিনি বলেন, “গত বছরের লোকসভা ভোটে একটি আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল মমতাকে। পাল্টা কোনও ধরণের রাজনৈতিক সৌজন্য তৃণমূল দেখায়নি।” এসপি-র এই বর্ষীয়ান নেতা মনে করেন, অন্য কোনও কারণে নয়, সাধারণ মানুষই এ বার তৃণমূলকে হারিয়েছেন। অদূর ভবিষ্যতে এই দলের ফেরার সম্ভাবনাও কম। তাঁর কথায়, “গণতন্ত্রের ইতিহাসে এমন দৃষ্টান্ত পাওয়া বিরল যে, একটি দল নির্বাচনে হারার কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তাসের ঘরের মতো দল ভেঙে পড়ল।”