আমেরিকায় দাঁড়িয়ে আবার সন্ত্রাসবাদ নিয়ে সরব হলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। শুধু তা-ই নয়, আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘কাঁটা’ হতে পারে পাকিস্তান, তেমন আভাসও দেন তিনি। জয়শঙ্কর স্পষ্ট জানান, আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ নিয়ে নয়াদিল্লির অবস্থান যদি ভারতের বন্ধু দেশগুলি সঠিক ভাবে বুঝতে না পারে তবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে প্রভাব পড়তে পারে!
নিউ ইয়র্কে এশিয়া সোসাইটির এক অনুষ্ঠানে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনার গতি, জটিলতা, শুল্ক সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক-সহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন জয়শঙ্কর। তাঁর বক্তৃতায় বার বার উঠে এসেছে আমেরিকার সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের ওঠানামার বিষয়টা। দুই দেশের প্রতিনিধিদল বারংবার আলোচনায় বসেও এখনও পর্যন্ত বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছোতে পারেনি। সেই বিষয় নিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, ‘‘বাণিজ্য আলোচনার জটিলতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কিছু বাধা-বিপত্তি ঘটিয়েছে।’’ একই সঙ্গে এ-ও জানিয়েছেন, বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে একটা বোঝাপড়া হয়েছে। তবে শেষপর্যন্ত কী হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তার মেঘ কাটেনি।
সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতের উদ্বেগের বিষয়টি তুলে ধরেন জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, ‘‘ভারতের কাছে সন্ত্রাসবাদ খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং উদ্বেগের বিষয়। আমরা মনে করি, খুব কম দেশই আছে, যারা আমাদের মতো প্রতিবেশীর ছড়ানো সন্ত্রাসবাদের শিকার হয়েছে।’’ ভারতের বিদেশমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বুঝিয়ে দেন, ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে গেলে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে নয়াদিল্লির অবস্থান অনুধাবন করতে হবে। যদি তা না হয় তবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে প্রভাব পড়তে পারে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় আসার পর আমেরিকার সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কে এক উল্লেখযোগ্য উন্নতি লক্ষণীয়। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ, সেনাপ্রধান আসিম মুনির-সহ বহু প্রশাসনিক কর্তা বার বার মার্কিন সফরে গিয়েছেন। জয়শঙ্কর মনে করিয়ে দিয়েছেন, অতীতে আমেরিকাও সন্ত্রাসবাদের শিকার হয়েছে। আর সেই কারণে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে আমেরিকার অবস্থানও স্পষ্ট হওয়া উচিত।
আরও পড়ুন:
সন্ত্রাসবাদ নিয়ে বিশ্বমঞ্চে বার বার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে ভারত। রাষ্ট্রপুঞ্জের ৮১তম সাধারণ সভাতেও একই ভাষায় প্রতিবেশী দেশকে আক্রমণ শানিয়েছিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী। সেই মঞ্চে তিনি বলেছিলেন, ‘‘সন্ত্রাসবাদের মদতদাতাদের নিজেদের আচরণের পরিবর্তন করতে হবে।’’ একই সঙ্গে তাঁর স্পষ্ট বার্তা ছিল, ‘‘আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করবই।’’ পাক প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে ভারতের বিদেশমন্ত্রীর দাবি, যাঁরা সন্ত্রাসবাদে লিপ্ত তাঁরা বক্তৃতার সময়ে তথ্য বিকৃত করেন।