দীর্ঘ ১৬ বছর পর ভারতে ফিরছেন আইপিএলের প্রাক্তন চেয়ারম্যান ললিত মোদী। ২০১০ সালে দেশ ছেড়েছিলেন তিনি। ‘ফরেন এক্সচেঞ্জ ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট’-এর নিয়ম ভাঙার অভিযোগে ললিতকে ১০ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকা জরিমানা করেছিল ইডি। মঙ্গলবার আপিল ট্রাইবুনাল থেকে সেই মামলায় স্বস্তি পেয়েছেন তিনি। ইডির সিদ্ধান্ত এবং জরিমানা বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। তার পরেই দেশে ফেরার কথা ঘোষণা করে ভিডিয়োবার্তা প্রকাশ করলেন ললিত।
ললিতের হাত ধরেই আইপিএলের সূচনা হয়েছিল। তিনি জানিয়েছেন, এ বছরের শেষে বা আগামী বছরের শুরুর দিকে তিনি ভারতে ফিরবেন। কারণ, দেশে ফিরতে আর তাঁর কোনও বাধা নেই। ললিতের কন্যা অন্তঃসত্ত্বা। দাদু হওয়ার পরেই দেশে ফিরবেন, সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রাক্তন আইপিএল কর্তা। ভিডিয়োবার্তায় তিনি বলেন, ‘‘এই রায়ে আমি খুব খুশি। একটা দারুণ দিন। আমি ১৬ বছর ধরে লড়াই করেছি। এত দিন ধরে সংবাদমাধ্যমে যা বলে এসেছি, সেটাই সত্যি হিসাবে প্রমাণিত হল। ট্রাইবুনাল যে আমার পক্ষে রায় দিয়েছে, তাতে আমি সত্যিই খুব খুশি হয়েছি। আমি শুধু আইপিএলের ভালর কথাই ভেবেছিলাম। আর কিছু নয়। সেটাই আমার সবচেয়ে প্রিয় ছিল। সেই অধ্যায়কে পিছনে ফেলে এসেছি। ভারতে ফেরার জন্য মুখিয়ে আছি।’’
আরও পড়ুন:
চোরাকারবার এবং বৈদেশিক মুদ্রা কারচুপি আইনে ললিতের বিরুদ্ধে ইডির যাবতীয় তদন্ত এবং জরিমানা বাতিল করেছে আপিল ট্রাইবুনাল। রায়ে জানানো হয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রা আইন ভাঙার জন্য যে ললিতই দায়ী ছিলেন, তা প্রমাণ করা যায়নি। তার সপক্ষে উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ মেলেনি। এই রায়ের পরেই দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ললিত।
২০০৯ সালে ভোটের কারণে আইপিএল ভারত থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকায়। সেই সময় বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন হয়েছিল। ইডির অভিযোগ, তার জন্য রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের পর্যাপ্ত অনুমতি নেওয়া হয়নি। আর্থিক নয়ছয়ের অভিযোগে ললিতের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করেছিল তদন্তকারী সংস্থা। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডও তাঁকে নির্বাসিত করে। দেশ ছেড়েছিলেন ললিত। হাই কোর্ট, সুপ্রিম কোর্টে মামলাও করেন। অবশেষে দেশে ফেরার কথা জানালেন তিনি।
(ভ্রম সংশোধন: এই খবরটি প্রথম প্রকাশের সময় লেখা হয়েছিল, ঋণখেলাপির মামলায় শাস্তি এড়াতে ললিত মোদী ২০১০ সালে দেশ ছেড়েছিলেন। ঋণখেলাপি সংক্রান্ত তথ্যটি ভুল। সংশোধন করা হল। অনিচ্ছাকৃত এই ত্রুটির জন্য আমরা আন্তরিক ভাবে দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।)