Advertisement
E-Paper

উচ্ছেদের বিরোধিতায় বিধায়করা

সরকারি জমি জবর দখল করার ব্যাপারে কঠোর মনোভাব নিয়ে নিজের দল ও বিরোধীদের সম্মিলিত চাপের মুখে পড়েছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ মার্চ ২০১৭ ০৩:১৪

সরকারি জমি জবর দখল করার ব্যাপারে কঠোর মনোভাব নিয়ে নিজের দল ও বিরোধীদের সম্মিলিত চাপের মুখে পড়েছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল। সরকার যখন রাজ্যের সার্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে দখল উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তখন রাজনীতি নির্বিশেষে বিধায়করা নিজের নিজের এলাকায় ভোটব্যাঙ্ক অক্ষুণ্ণ রাখতে মরিয়া। তাঁদের লক্ষ্য, ভোটার, সে দখলকারীই হলে হোক, যেন বিধায়কের উপর চটে না যায়।

আজ থেকে ফের জবরদখলকারী উচ্ছেদ শুরু করেছে সরকার। তার প্রতিবাদে বিধানসভায় দলমত নির্বিশেষে সরব হয়েছেন বিজেপি-অগপ-কংগ্রেস-এআইইউডিএফ বিধায়করা। কংগ্রেসের শেরমাল আলির বক্তব্য, রাজ্যের জাতীয় উদ্যান, সংরক্ষিত অরণ্যে অবাধ জবরদখল চলছে। তা বন্ধ করতে সরকার ব্যর্থ। কিন্তু ভূমিহীন দরিদ্রদের উচ্ছেদের নামে মানবাধিকার ভাঙা হচ্ছে। দিসপুরের বিজেপি বিধায়ক অতুল বরা তাঁর এলাকার জবরদখলের জন্য আগের কংগ্রেস বিধায়ক অকণ বরাকে দায়ী করে বলেন, তখনকার বিধায়কের মদতেই এই সব জমি বেদখল হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, বড় ব্যবসায়ীদের জন্য কংগ্রেস আমলে পাহাড়-জলাশয়ে নির্মাণ চালাতে দেওয়া হয়েছিল। এতে বহু সরকারি কর্তা জড়িত। দখলকারীদের সঙ্গে আলোচনা না করে উচ্ছেদের বিরোধিতা করে অতুলবাবু বলেন, ‘‘দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ে বাস করা মানুষদের পাট্টা বা পুনর্বাসন দেওয়া উচিত।’’

সরকারি জোটের শরিক অগপর বিধায়ক রমেন্দ্রনারায়ণ কলিতা স্পষ্ট দাবি, পাহাড়ে বাস করা ভূমিপুত্রদের জমির পাট্টা দিতে হবে। বিজেপি বিধায়ক তথা দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সিদ্ধার্থ ভট্টাচার্যের মতে, ১৫ বছরের বেশি এক জায়গায় বসবাসকারীদের উচ্ছেদ করা উচিত হবে না। তবে রাজস্ব দফতরের ভারপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী পল্লবলোচন দাস বলেন, ‘‘সরকার জমি জরিপের কাজ শুরু করেছে। দখল করা জমি উদ্ধার করা হবেই।’’ তিনি জানান, মার্চ মাসে ‘ইন্টিগ্রেটেড ল্যান্ড ম্যানেজেমন্ট সিস্টেম’ বলবৎ করা হবে। জমি কেনা-বেচার কাজ হবে অনলাইনে। দালাল প্রথা লুপ্ত হবে। পাহাড়, জলাশয়, সংরক্ষিত অরণ্য দখলমুক্ত করে যোগ্য ভূমিহীন ভূমিপুত্রদের অন্যত্র জমি দেওয়া যেতে পারে। উপজাতি এলাকার জমি দখল করা বা দখলে মদত দেওয়া সরকারি কর্মীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী সোনোয়াল জানান, হাইকোর্টের নির্দেশ মেনেই উচ্ছেদ হচ্ছে । পরিবেশ রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর। আর আগাম ঘোষণা করেই উচ্ছেদে হাত দেওয়া হয়েছে। কৃষক মুক্তি সংগ্রাম সমিতি সাংবাদিক সম্মেলন করে চিরাংয়ে রামদেবকে হাজার-হাজার বিঘা জমি দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাদের বক্তব্য, জমি পেয়েছে একাধিক ভুয়ো প্রতিষ্ঠান। সরকারের নীতির প্রতিবাদে ২৬ হাজার গ্রাম থেকে গ্রামবাসীরা যাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি পাঠান, সে ব্যাপারে তারা উদ্যোগী হয়েছে।

Eviction

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy