সংসদের বাদল অধিবেশনের শুরু থেকেই অচলাবস্থা চলছে। কখনও রাম মন্দিরের প্রণামী চুরি, কখনও প্রশ্নফাঁস এবং ছাত্রবিক্ষোভ-সহ বিভিন্ন ঘটনায় জবাবদিহি চেয়ে কেন্দ্রকে বিঁধছে বিরোধী দলগুলি। এ অবস্থায় লোকসভাকে সচল রাখার জন্য সব দলের কাছে অনুরোধ করলেন স্পিকার ওম বিড়লা। সোমবার লোকসভার কার্যক্রম পরিচালনা (বিজ়নেস অ্যাডভাইজ়রি) কমিটির বৈঠকে এ বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি।
অচলাবস্থা কাটাতে গত বুধবার লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধীর সঙ্গে দেখা করেছেন সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। গত শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও দেখা করেছেন স্পিকারের সঙ্গে। এর পরেই সোমবার সকালে লোকসভার কার্যক্রম পরিচালনা কমিটির বৈঠকেও অচলাবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্পিকার। সংবাদসংস্থা এএনআই সূত্রে খবর, সব দলের লোকসভার দলনেতাদের উদ্দেশে তিনি অনুরোধ করছেন— সাধারণ জনতার কথা শোনার অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করা হোক লোকসভায়। প্রশ্নোত্তর পর্ব এবং গুরুত্বপূর্ণ বিলগুলি নিয়ে আলোচনাও যাতে সুষ্ঠু ভাবে হয়, তার জন্যও অনুরোধ করেন তিনি।
ওই সূত্রের দাবি, এ বিষয়ে সব দলের কাছ থেকে সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি। বৈঠকে বিড়লা বলেন, “সাধারণ জনতার সমস্যার কথা যেন সংসদের বাইরে পড়ে না থাকে। গণতন্ত্রের খাতিরে, সাধারণ মানুষের খাতিরে দয়া করে সহযোগিতা করুন। অধিবেশন সচল রাখুন।” লোকসভায় গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সমস্যার সমাধানের পথ খোঁজার উপরে জোর দেন তিনি।
ঘটনাচক্রে, এই বৈঠকের পর পরই কেন্দ্র জানিয়ে দেয়— ছাত্রবিক্ষোভ নিয়ে সংসদে আলোচনার জন্য তারা তৈরি। রিজিজু জানিয়েছেন, শাহ এ বিষয়ে বক্তৃতা করবেন। একই সঙ্গে কংগ্রেস-সহ বিরোধীদের খোঁচাও দেন তিনি। জানিয়ে দেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তৃতার সময়ে যেন বিরোধী সাংসদেরা বাধা না দেন।
গত ২০ জুলাই শুরু হয়েছে সংসদের বাদল অধিবেশন। প্রথম দিন থেকে বিরোধীদের হট্টগোলে মুলতুবি হয়েছে অধিবেশন। পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে লোকসভায় বিল নিয়ে আলোচনার পরিস্থিতিই নেই। শুধুমাত্র প্রশ্নফাঁস বিরোধী বিল নিয়ে আলোচনা হয়েছে সংসদের উভয় কক্ষে। তা পাসও হয়েছে দুই কক্ষেই। এ ছাড়া বিরোধী শিবিরের হট্টগোলের মাঝে আরও কয়েকটি বিল পাস হয়েছে। তবে সেগুলি নিয়ে বিশেষ কোনও আলোচনা হয়নি।
বিরোধী দলগুলি শুরু থেকেই নিট প্রশ্নফাঁস এবং রামমন্দিরের প্রণামী চুরির ঘটনায় সরব হয়েছে। এ নিয়ে সংসদের বাইরে দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখিয়েছে তারা। পরে ছাত্রবিক্ষোভের সময়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সংসদে আলোচনার জন্যও চাপ দেন বিরোধী সাংসদেরা। এ বিষয়ে কেন্দ্রের বিবৃতি দাবি করেন তাঁরা। এ অবস্থায়, কেন্দ্র ছাত্রবিক্ষোভ নিয়ে বিবৃতি দিতে রাজি হওয়ায় অচলাবস্থা কাটে কি না, সেটাই দেখার।