বিজেপি লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস বিলে ডিএমকে-র সমর্থন পেতে এম কে স্ট্যালিনের দলের নেতাদের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী করার প্রস্তাব দিচ্ছে। ঠিক সেই সময়ে ডিএমকে প্রধান এম কে স্ট্যালিন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে চিঠি লিখে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু করার আর্জি জানালেন।
তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনের পরে কংগ্রেস ডিএমকে-র সঙ্গ ছেড়ে সি জোসেফ বিজয়ের টিভিকে-র সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। কংগ্রেসের এই পদক্ষেপকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ অ্যাখ্যা দিয়েছে ডিএমকে। জ্ঞানেশের অপসারণ চেয়ে ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চের জনসভা থেকে দূরত্ব বজায় রাখছে তারা। এই সুযোগে লোকসভায় ২২ সাংসদের ডিএমকে-কে পাশে টানতে চাইছে বিজেপি। ডিএমকে-র শর্ত মেনে লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস বিলে প্রতিটি রাজ্যের লোকসভা আসন সংখ্যা ৫০ শতাংশ করে বাড়বে বলে লিখে দিতেও মোদী সরকার রাজি। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, ডিএমকে রাষ্ট্রপতিকে চিঠি পাঠানোর পরেই বুধবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তবে কী কারণে এই সাক্ষাৎ তা জানানো হয়নি।
স্ট্যালিন রাষ্ট্রপতিকে চিঠি লিখে অনুরোধ করেছেন, তিনি সংবিধানের ১৪৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তামিলনাড়ুর ভোটার তালিকা থেকে ৯৭.৩৭ লক্ষ নাম বাদ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের মতামত চান। স্ট্যালিনের আর্জি, জ্ঞানেশ কুমারের দুই নির্বাচন কমিশনারকে অবজ্ঞা করে ‘বেআইনি পদক্ষেপ, একতরফা, অসাংবিধানিক ও পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ’-এর জন্য রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৮৬(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদকে তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে বলুন। নির্বাচন কমিশনকে ভবিষ্যতের ভোটে এসআইআর-পরবর্তী ভোটার তালিকা ব্যবহার না করার নির্দেশ দিন। অথচ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের আগে ডিএমকে পুরোপুরি এসআইআরের বিরোধিতা করেনি। বিরোধী শিবিরের প্রশ্ন, বিজেপির সঙ্গে দর কষাকষির সঙ্গে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করতেই কি ডিএমকে-র এই চিঠি!