Advertisement
E-Paper

মহারাষ্ট্রের ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ থেকে বাদ ৯২ লক্ষের নাম! ‘লড়কী বহিন’ হয়ে ভাতা নিয়ে গিয়েছেন ২৯ হাজার পুরুষও

পশ্চিমবঙ্গের ‘লক্ষ্মীর ভান্ডারের’ ধাঁচে ‘মুখ্যমন্ত্রী মাঝি লড়কী বহিন যোজনা’ চালু হয়েছিল মহারাষ্ট্রে। ২১ থেকে ৬৫ বছর বয়সি যে সমস্ত মহিলার পারিবারিক আয় (বার্ষিক) আড়াই লক্ষ টাকার কম, এই প্রকল্পে তাঁদের মাসে নগদ ১৫০০ টাকা দেওয়া হয়।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬ ১৬:৩৭
মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীস।

মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীস। —ফাইল চিত্র।

যাচাইপ্রক্রিয়ার পর মহারাষ্ট্রের লক্ষ্মীর ভান্ডার থেকে বাদ পড়েছে ৯২ লক্ষ উপভোক্তার নাম! তথ্যের অধিকার আইন (আরটিআই)-এ করা প্রশ্নের ভিত্তিতে এই পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে এনেছে বিজেপির নেতৃত্বাধীন মহারাষ্ট্র সরকার।

মহারাষ্ট্র সরকারের দেওয়া পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ জানিয়েছে, ২ কোটি ৪৩ লক্ষ উপভোক্তার মধ্যে ৯২ লক্ষের নামই বাদ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, নথিভুক্ত উপভোক্তাদের মধ্যে ৩৮ শতাংশের নামই বাদ পড়েছে। অযোগ্য হিসাবে বিবেচিত হওয়া উপভোক্তাদের মধ্যে রয়েছেন ২৯ হাজার পুরুষও। অর্থাৎ, মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা পেতেন তাঁরাও।

২০২৪ সালের বিধানসভা ভোটের আগে পশ্চিমবঙ্গের ‘লক্ষ্মীর ভান্ডারের’ ধাঁচে ‘মুখ্যমন্ত্রী মাঝি লড়কী বহিন যোজনা’ চালু হয়েছিল মহারাষ্ট্রে। ২১ থেকে ৬৫ বছর বয়সি যে সমস্ত মহিলার পারিবারিক আয় (বার্ষিক) আড়াই লক্ষ টাকার কম, এই প্রকল্পে তাঁদের মাসে নগদ ১৫০০ টাকা দেওয়া হয়। এর আগে দেবেন্দ্র ফডণবীসের সরকার জানিয়েছিল যে, যাচাইপ্রক্রিয়ার পর ৮০ লক্ষ উপভোক্তার নাম বাদ গিয়েছে। কিন্তু সরকারের দেওয়া পরিসংখ্যানে ইঙ্গিত যে, ৯২ লক্ষের নাম বাদ গিয়েছে।

মহারাষ্ট্র সরকারের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ই-কেওয়াইসি সম্পূর্ণ না-করায় ৬২ লক্ষ উপভোক্তার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তথ্য যাচাই করে দেখা গিয়েছে, ১৬ লক্ষ উপভোক্তার পারিবারিক আয় (বার্ষিক) আ়ড়াই লক্ষ টাকার বেশি। তাই তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। অন্য সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ায় বাদ গিয়েছে ৩.৬ লক্ষ মহিলার নাম। একই পরিবারের দু’জনের বেশি উপভোক্তা থাকায় ‘লড়কী বহিন’ প্রকল্প থেকে ২.৫ লক্ষ মহিলার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মচারী হয়েও এই প্রকল্পের সুবিধা নেওয়ায় ৮০০০ জনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। ৬৫ বছরের বেশি বয়স হয়ে যাওয়ার পরেও প্রকল্পের সুবিধা নেওয়ায় বাদ গিয়েছে ১.৮ লক্ষ উপভোক্তার নাম।

এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত সরকারি আধিকারিকদের মতে, অযোগ্য হিসাবে চিহ্নিত হওয়া উপভোক্তারা প্রায় ১০ মাস আর্থিক অনুদান পেয়েছেন। তবে কোনও নির্দিষ্ট সময় থেকে তাঁদের আর্থিক অনুদান দেওয়া বন্ধ করেনি সরকার। কারণ যাচাইপ্রক্রিয়ার বিভিন্ন স্তরে এই অনিয়মগুলি ধরা পড়েছে। সেগুলি ধরা পড়ার পরেই প্রকল্পের সুযোগসুবিধা বন্ধ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গে পালাবদলের পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন যে, তৃণমূল আমলে অবৈধ ভাবে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর সুবিধা নিয়েছেন বহু পুরুষও! আর সেই কারণেই যোগ্য মানুষদের চিহ্নিত করতে প্রত্যেককেই এ বার ‘অন্নপূর্ণা যোজনার’ ফর্ম পূরণ করতে হবে বলে জানান তিনি। এ বার বিজেপিশাসিত মহারাষ্ট্রেও মহিলাদের প্রকল্পে পুরুষ উপভোক্তাদের সংখ্যা জানা গেল।

Ladki Bahin BJP Annapurna Yojana Lakkhir Bhandar

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy