সংসদের বাদল অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতুবি হয়ে গিয়েছে প্রায় দু’মাস আগে। কিন্তু প্রথা মেনে অধিবেশন শেষের বিজ্ঞপ্তি জারি এখনও হয়নি! এই আবহে জল্পনা তৈরি হয়েছে, লোকসভা পুনর্বিন্যাস বিল পাস করিয়ে নেওয়ার জন্য চলতি মাসের শেষে সংসদে বিশেষ অধিবেশন ডাকতে পারে এনডিএ সরকার। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে শুক্রবার চিঠি দিয়ে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে জানালেন, লোকসভা পুনর্বিন্যাস বিল সংসদে আনার আগে তা নিয়ে আলোচনার জন্য সর্বদল বৈঠক ডাকা হোক। আগের মতো জোর করে ‘বুলডোজ়’ করে সেই বিল পাস করানোর প্রচেষ্টা যাতে না হয়, তা নিয়েও সতর্ক করেছেন খড়্গে। এই নিয়ে চতুর্থবার মোদীকে চিঠি দিলেন খড়্গে।
চিঠিতে খড়্গে লিখেছেন, ‘‘আপনি আগে যে ভাবে একটি সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে বুলডোজ়ার চালানোর মতো জোর করে পাস করানোর চেষ্টা করেছিলেন, দয়া করে আবার সেই চেষ্টা করবেন না। সেই বিলের যা হওয়ার তাই হয়েছিল (সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে পাস হয়নি)।’’ তার পরেই তিনি জানিয়েছেন, যে ভাবে বাদল অধিবেশন স্থগিত হয়ে রয়েছে, তা ‘নজিরবিহীন’। ১৩ অগস্ট বাদল অধিবেশন স্থগিত হয়ে যাওয়ার পরে ৬৪ দিন কেটে গিয়েছে। অথচ সংসদের দুই কক্ষ এখনও স্থগিত। এই পরিস্থিতির কথাই চিঠিতে খড়্গে লিখেছেন।
খড়্গে আরও জানিয়েছেন, লোকসভা পুনর্বিন্যাস বিল সংসদে আনার আগে তা নিয়ে আলোচনা করতে সর্বদল বৈঠক ডাকার জন্য গত ১১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছিলেন তিনি। খড়্গে অভিযোগ করে লেখেন, ‘‘আপনি (মোদী) তা করেননি। এর পরিবর্তে, আপনি ১৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় বিলগুলি প্রকাশ্যে আনেন এবং ১৬ এপ্রিল একটি বিশেষ অধিবেশন ডাকেন। শেষপর্যন্ত ১৭ এপ্রিল পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিলটি লোকসভায় প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ব্যর্থ হয়। একটি বড় ব্যবধানে তা নাকচ হয়ে যায়।’’ তার পরে সর্বদল বৈঠক ডাকার জন্য একই অনুরোধ জানিয়ে আবার ১৬ জুলাই এবং ২৭ অগস্ট মোদীকে চিঠি লেখেন বলে জানিয়েছেন খড়্গে। শুক্রবার ওই একই অনুরোধ করে চতুর্থ চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, সব দলেরই এই বিষয়ে নিজেদের মতামত জানানোর জন্য যথেষ্ট সময় পাওয়া উচিত।
আরও পড়ুন:
৫৪৩ আসনের লোকসভায় বর্তমানে তিনটি আসন খালি রয়েছে। যে কোনও সংবিধান সংশোধনী বিল লোকসভায় পাস করানোর জন্য মোট ভোটদানকারী সাংসদদের দুই-তৃতীয়াংশের (৬৬.৬৭ শতাংশ) সমর্থন প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ, সব সাংসদ ভোটাভুটিতে অংশ নিলে ৩৬০ জনের সমর্থন পেতে হবে সরকারপক্ষকে। প্রসঙ্গত, গত ১৭ এপ্রিল মোদী সরকার লোকসভার আসন বাড়িয়ে মহিলা সংরক্ষণের জন্য সংবিধানের ১৩১তম সংশোধনী বিল পাস করাতে ব্যর্থ হয়েছিল, দুই-তৃতীয়াংশ গরিষ্ঠতা না থাকায়। আসন পুনর্বিন্যাস বিলের সঙ্গে মহিলা সংরক্ষণ বিলটি ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। সেই সময় উপস্থিত ৫২৮ জনের মধ্যে ৩৫২টি ভোট দরকার ছিল বিল পাস করাতে। সরকার পেয়েছিল ২৯৮টি। এর পরে তৃণমূল থেকে বেরোনো ২০ জন এবং উদ্ধবের শিবসেনা থেকে বেরোনো ৬ জনকে নিলে এনডিএর পক্ষে ৩২৪ জন রয়েছেন। ডিএমকের ২২ জন সরকারের পক্ষে ভোট দিলে এনডিএর ভোট ৩৪৬ হবে।
অতীতে এ ধরনের পরিস্থিতিতে বিরোধীদের ভয় দেখিয়ে সমর্থন জোগাড়ের অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। কিন্তু গত কয়েক মাসে যন্তর মন্তরে আন্দোলন, ছাত্র বিক্ষোভ, দিল্লিতে বাড়ি ভেঙে কলেজ পড়ুয়াদের মৃত্যুর ঘটনায় সরকারের ভাবমূর্তি তলানিতে। মনে করা হচ্ছে, এই পরিস্থিতিতে ধীরে চলো নীতি নিচ্ছিল বিজেপি। কিন্তু এ বার বিশেষ অধিবেশন ডেকে সেই বিল পেশ করাতে পারে। সে কারণে আবার মোদীকে চিঠি দিলেন খড়্গে।