রামলীলার জনসভায় সময়াভাবে বলার সুযোগ পাননি ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চের দুই বড় দল উদ্ধবপন্থী শিবসেনা এবং শরদ পওয়ারপন্থী এনসিপি-র সংসদীয় নেতারা। সূত্রের খবর, আজ দুপুরে দিল্লি ছাড়ার আগে ফোনে উদ্ধব ঠাকরের সঙ্গে কথা বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, তিনি উদ্ধবকে জানিয়েছেন, শিবসেনার সঞ্জয় রাউত এবং এনসিপি(এসপি)-র সুপ্রিয়া সুলে বলতে না পারার বিষয়টিতে তিনি নিজেও অখুশি। উদ্ধবকে তৃণমূল নেত্রীর বার্তা, এমনটা যেন ‘ইন্ডিয়া’র সমাবেশে আর না হয়, সেটা নিয়েও সজাগ থাকবেন তিনি। পাশাপাশি, গত কালের মহাসমাবেশের পর আজ সকাল থেকেই ‘ইন্ডিয়া’র দলগুলির নেতারা একে অন্যের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। স্থির হয়েছে দীপাবলি এবং তার পরবর্তী ছট-সহ বিভিন্ন উৎসবের মধ্যে আর কোনও আন্দোলন করা হবে না। মোটামুটি ভাবে ২০ নভেম্বরের পর পরবর্তী কর্মসূচি নেওয়া হবে।
আজ উদ্ধবপন্থী শিবসেনার রাজ্যসভার দলনেতা সঞ্জয় এবং শরদ পওয়ার কন্যা সুপ্রিয়ার পক্ষ থেকে মহারাষ্ট্রের সাংবাদিকদের জানানো হয়েছে, মিছিলে প্রত্যাশিত সময়ের তুলনায় অনেকটাই বেশি লেগে যাওয়ায় সবাই বলতে পারেননি। রামলীলা ময়দানের পুলিশি অনুমতিতেও নির্দিষ্ট সময়সীমা ধার্য ছিল। ফলে কোনও রাজনৈতিক অনৈক্যের বিষয় নয়, বিষয়টি নিছকই সময়াভাব। তাঁরা ভোট চুরির বিরুদ্ধে একজোট হয়েই লড়াই করছেন, আগামী দিনেও করবেন। রাজনৈতিক শিবিরের মতে, সুপ্রিয়ারা বিজেপির সঙ্গে কথা চালাচ্ছেন। ফলে সুপ্রিয়া মহারাষ্ট্রের রাজনীতির কথা মাথায় রেখে এই মুহূর্তে এই ধরনের মঞ্চ থেকে খুব একটা সরব হতে চাইছিলেনও না।
বিজেপি গত কালের সমাবেশকে ‘ফ্লপ’ বলে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে এই অভিযোগ তুলে সঞ্জয় আজ বলেন, বিজেপির যা মনে চায় বলুক। তাতে কোনও ফারাক পড়বে কি? গোটা দেশ এবং বিশ্ব এই সমাবেশের সাক্ষী। পাশাপাশি ইন্দিরা গান্ধীর অত্যাচারী সরকারের কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন সঞ্জয়। বলেছেন, “গত কালের রামলীলার সমাবেশ জয়প্রকাশ নারায়নের ডাকা ১৯৭৪ সালের সমাবেশের পর সবচেয়ে বড়। সে সময় ইন্দিরা গান্ধীর অত্যাচারী সরকারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র বাঁচাও-এর ডাক দেওয়া হয়েছিল। সংবিধান এবং গণতন্ত্র বাঁচাতে রামলীলা ময়দানে মানুষকে জমায়েতের ডাক দিয়েছিলেন জয়প্রকাশ। রাহুল গান্ধীও ১ নভেম্বর ওই একই কারণে সমাবেশ ডেকেছেন। বিজেপি-র চোখের অসুখ হয়েছে তাই দেখতে পাচ্ছে না। চশমা লাগিয়েও কোনও কাজ হচ্ছে না!”
বিরোধীদের আক্রমণ করে সংসদ বিষয়কমন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেছেন ওই সমাবেশ নেহাতই ‘ফ্লপ’। আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদবের কথায়, “সমাবেশ যদি ফ্লপই হয়ে থাকে তা হলে বিজেপির এত ঘাবড়ে যাওয়ার কারণ কী? সবাই টের পাচ্ছে যে বিজেপি কেঁপে গিয়েছে এবং তাদের চুরি ধরা পড়ে গিয়েছে। ওরা জ্ঞানেশ কুমারকে বাঁচাচ্ছে।” আরজেডি সাংসদ মনোজ ঝা এই প্রসঙ্গে বলেন, “কোনও রাজনৈতিক দল (বিজেপি) যখন এ হেন প্রতিক্রিয়া দিতে শুরু করে তার একটাই অর্থ, তারা ভয় পেয়ে গিয়েছে। আর কাদের ভয় পাচ্ছে? কোনও রাজনৈতিক দল নয়, দেশবাসীকেই।”তৃণমূলের তরফে ‘ইন্ডিয়া প্লাস’-এর তত্ত্ব দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি, নাগরিক সমাজ, আইনজীবী, ছাত্র ও যুব, জেন জ়ি এবং ককরোচ জনতা পার্টি। একমাত্র মমতাই গত কালের মঞ্চ থেকে ককরোচদের আহ্বান করেছেন। গত পরশু অভিজিৎ দীপকের সঙ্গে আলাদা করে বৈঠক করে তাঁদের যুবা আন্দোলনের পুরোধা হিসাবে তুলে ধরেছেন। সূত্রের মতে, ওই বৈঠকে দীপকে মমতার কাছে স্বীকার করেছেন যে শান্তি মুচলেকায় সই করা তাঁদের উচিত হয়নি। তাঁদের বুদ্ধি দেওয়ার মতো কেউ সে দিন ছিল না। মমতা তাঁদের বলেছেন, দীপকেরা অল্পবয়সি, ভুল হতেই পারে। ভুল সংশোধন করে আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য উৎসাহ দিয়েছেন তিনি।