১৫০০ টাকা ট্যাক্সির ভাড়া দিতে না পারায় দিল্লিতে এক যুবককে খুনের অভিযোগ উঠল। যুবক কে, কোথায় তাঁর বাড়ি, তা যখন জানার চেষ্টা করছে পুলিশ, তখনই তাঁর হাতের একটি ট্যাটু নজরে আসে। ‘লভ’ চিহ্নের ভিতরে লেখা ‘আনন্দ’। আর তার ঠিক পাশেই লেখা রয়েছে ‘রেণু’।
সেই সূত্র ধরে যুবককে শনাক্ত করার জন্য তাঁর ছবি পার্শ্ববর্তী অঞ্চলেও ছড়িয়ে দেওয়া হয়। তার পরেও কেউ আসেননি যুবককে শনাক্ত করার জন্য। তার মধ্যেই দু’সপ্তাহ পেরিয়ে যায়। মর্গে পড়ে থাকে যুবকের দেহ। পুলিশ নানা ভাবে চেষ্টা করতে থাকে, যদি কেউ শনাক্ত করতে পারেন যুবককে। নারাইয়না চকের কাছ থেকে যুবকের দেহ উদ্ধার হয়। সেই জায়গার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ। সেই ফুটেজ থেকে একটি ট্যাক্সিকে চিহ্নিত করে তারা।
সেই সূত্র ধরে রাজেন্দ্র নামে ওই ট্যাক্সিচালকের হদিস পায় পুলিশ। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারা যায়, ওই যুবক তাঁর ট্যাক্সিতেই চেপেছিলেন। তাঁর সঙ্গে আরও এক জন ছিলেন। দু’জনেই মত্ত অবস্থায় ছিলেন। তাঁদের মধ্যে এক জন সফদরজং হাসপাতালে নেমে যান। তিনি বলেন, ভাড়া দেবেন ওই যুবক। কিছু দূর যেতেই ট্যাক্সিতে থাকা ওই যুবক বলেন, তাঁর কাছে টাকা নেই। দিতে পারবেন না। কিন্তু ট্যাক্সিচালক চেপে ধরেন। টাকা দিতেই হবে। যুবক তখন জানান, তাঁকে যেখানে খুশি নামিয়ে দিতে। কিন্তু টাকা না পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ট্যাক্সিচালক রাজেন্দ্র। তিনি নিজের বাড়ির দিকে ট্যাক্সি ছোটান। বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে ট্যাক্সি থামান। তার পর দু’জনে ট্যাক্সি থেকে নামেন। রাজেন্দ্র টাকার জন্য জোরাজুরি করতে থাকেন। অভিযোগ, টাকা না পেয়ে যুবককে ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে দেন। তার পর দেহ ফেলে দেন। এ কাজে তাঁদের সহযোগিতা করেন স্ত্রী এবং পুত্র।
ঘটনার প্রায় দু’সপ্তাহ পর পুলিশ জানতে পারে একটি নিখোঁজ ডায়েরি হয়েছে। সেই সূত্রে অভিযোগকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করে পুলিশ। তখন জানা যায়, অভিযোগকারী ওই যুবকের স্ত্রী। তাঁর নাম রেণু। আর যুবকের নাম আনন্দ। উত্তরাখণ্ড থেকে কাজের খোঁজে এসেছিলেন আনন্দ। এক আত্মীয়ের বাড়িতে থাকছিলেন। ঘটনার দিন একটি পানশালায় গিয়ে মদ্যপান করেন। আনন্দকে খুনের অভিযোগ ট্যাক্সিচালক রাজেন্দ্র এবং তাঁর স্ত্রী ও পুত্রকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।