নাগাড়ে বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত উত্তরপ্রদেশ। প্রবল বর্ষণ এবং দুর্যোগের জেরে গত তিন দিনে অন্তত ৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে সে রাজ্যে। গত কয়েক দিনে উত্তরপ্রদেশের ৭৫টি জেলার মধ্যে ৬৩টিতেই স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে। দুর্যোগের জেরে গ্রামাঞ্চলে চাষের জমিতে প্রচুর ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জলমগ্ন হয়ে পড়েছে নিচু এলাকাগুলি।
ঝড়বৃষ্টি এবং দুর্যোগের জেরে উত্তরপ্রদেশের অন্তত আটটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গত তিন দিনে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর খবর মিলেছে সীতাপুর, লখিমপুর খেরি, বহরাইচ, বলরামপুর, অযোধ্যা এবং গোরক্ষপুরে। আধিকারিক সূত্রে ‘দ্য হিন্দু’ জানাচ্ছে, টানা কয়েক দিনের এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১,০২১টি বাড়ি। বন্যাকবলিত এলাকাগুলি থেকে দুর্গতদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে।
টানা বৃষ্টির জেরে ঘাঘরা এবং রাপ্তী নদীর জলস্তরও ক্রমশ বাড়ছে। এর ফলে দুই নদীর আশপাশের নিচু এলাকাগুলিতে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রবিবার থেকেই বারাবঁকীর এলগিনব্রিজের কাছে ঘাগরা নদীর জলস্তর বিপদসীমা উপর দিয়ে বইছে। উত্তরপ্রদেশ সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দুর্গতদের কাছে দ্রুত ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আধিকারিকদের। দুর্যোগের জেরে মৃতদের পরিবারকেও আর্থিক সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছে আদিত্যনাথের সরকার।
গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে যাঁদের ঘরবাড়ি ধসে প়ড়েছে বা যাঁরা গবাদি পশু হারিয়েছেন, তাঁদেরও দ্রুত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে বিবৃতিতে। সরকারি সূত্রে খবর, বৃষ্টির জেরে গত তিন দিনে অন্তত ১৫৪টি পশুর মৃত্যুর হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অন্তত ৮৭ হেক্টর চাষের জমি।
গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে এই দুর্যোগ শুরু হয় উত্তরপ্রদেশে। নাগাড়ে বৃষ্টির জেরে বিঘ্নিত হয় ট্রেন এবং বিমান পরিষেবাও। বেশ কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের খবরও মেলে। সূত্রের খবর, বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে যাওয়ার জেরেই এই বিপত্তি ঘটেছে।