দখল হয়ে যাওয়া জমি ফিরে পেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাল্যবন্ধু আসগর আলি বোহরা। মোদীর সঙ্গে দেখা করার পর অবশেষে সুরাহা মিলল। উল্লেখ্য, বিজেপিরই এক বিধায়ক নরেন্দ্র মেহতার নির্মাণকারী সংস্থার বিরুদ্ধে বোহরার জমি দখলের অভিযোগ ওঠে। সেই অভিযোগ নিয়েই দিনকয়েক আগে মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন অশীতিপর বাল্যবন্ধু তথা মুম্বইয়ের মীরা রোডের বাসিন্দা বোহরা। তার পরই সেই জমি বাল্যবন্ধুকে ফিরিয়ে দিতে উদ্যোগী হন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী।
মঙ্গলবার অভিযুক্ত বিজেপি বিধায়ক মেহতা জানান, ওই জমি তিনি বোহরাকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। শুধু তা-ই নয়, বোহরার বিরুদ্ধে অভিযোগও তুলে নিয়েছেন বলে দাবি মেহতার। উল্লেখ্য, মোদীর সঙ্গে সাক্ষাতের পরই প্রশাসনের তরফে বোহরার জমি ফেরানোর বিষয়টি নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ করা হয়। মঙ্গলবার মহারাষ্ট্রের মন্ত্রালয়ে একটি বৈঠক ডাকা হয়েছিল। সেখানে হাজির ছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান সচিব শ্রীকর পরদেশী, অভিযোগকারী আসগর আলি বোহরা, অভিযুক্ত বিধায়ক নরেন্দ্র মেহতা এবং মীর-ভাইন্দরের পুর কমিশনার বিনোদ শর্মা, শহর পরিকল্পক পুরুষোত্তম শিন্দে।
সূত্রের খবর, তাঁদের উপস্থিতিতেই বিধায়ক মেহতা নগরোন্নয়ন দফতরের হাতে চিঠি তুলে দেন। সেই সঙ্গে তিনি জানান, বিতর্কিত ওই জমিটি তিনি ছেড়ে দিচ্ছেন। তবে পাশাপাশি মেহতা এটাও দাবি করেছেন, ২০১৯ সালে মার্ভিন ফার্নান্ডেজ় নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ওই জমি কিনেছিলেন। পুলিশ কমিশনারকে আলাদা ভাবে একটি চিঠি দিয়ে মেহতা জানান, বোহরার বিরুদ্ধে তিনি অভিযোগ তুলে নিচ্ছেন। দু’পক্ষই সমঝোতা করে নিয়েছে।
জমি দখলের সমস্যা নিয়ে গত ৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন বোহরা। জানান, পূর্ব ভাইন্দর এলাকায় একটি জমি নিয়ে বছর দশেকের পুরনো একটি মামলার কিছুতেই নিষ্পত্তি হচ্ছে না। এই ব্যাপারে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার (সিবিআই) হস্তক্ষেপ চেয়ে মোদীর দ্বারস্থ হন তিনি। বোহরার দাবি, ২৮১০ বর্গমিটারের যে জমি নিয়ে বিবাদ, সেই জমিটি ১৯৮৯ সালে সমস্ত আইনি বোঝাপড়ার পরেই কিনেছিলেন তিনি। ২০১১ সালে সেই জমি জবরদখল হয়। স্বয়ম বিল্ডার্স ও সেভেন ইলেভেন কনস্ট্রাকশন্স, এই দু’টি নির্মাণসংস্থার নাম উঠে আসে তাঁর অভিযোগে। ঘটনাচক্রে, সেভেন ইলেভেন কনস্ট্রাকশন্স সংস্থাটির মালিক বিজেপি বিধায়ক মেহতা।
বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। ১৬ সেপ্টেম্বর শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। কিন্তু তার ২৪ ঘণ্টা আগেই জমি ফেরত পেলেন বোহরা।