ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) তৃতীয় পর্বে এখনও পর্যন্ত দেড় কোটি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে! সেই সংখ্যা আরও বাড়বে বলেই জানাচ্ছে নির্বাচন কমিশন।
বিহার দিয়ে এসআইআর পর্ব শুরু করেছিল কমিশন। দ্বিতীয় পর্যায়ে পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটার তালিকা ‘সাফাই’ করতে এই প্রক্রিয়া চালিয়েছিল তারা। এখন চলছে তৃতীয় পর্ব। দিল্লি, ওড়িশা, মিজ়োরাম, মণিপুর, সিকিম, উত্তরাখণ্ড, অন্ধ্রপ্রদেশ, অরুণাচল প্রদেশ, হরিয়ানা, চণ্ডীগড়, পঞ্জাব, কর্নাটক, তেলঙ্গানা, মেঘালয়, মহারাষ্ট্র, ঝাড়খণ্ড, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা, দাদরা ও নগর হাভেলি এবং দমন ও দিউতে এসআইআর চলছে। অর্থাৎ, ১৬টি রাজ্য এবং তিনটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ভোটার তালিকা সংশোধন করছে কমিশন। তার মধ্যে এখনও পর্যন্ত ১২টির খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। আর তাতেই দেখা যাচ্ছে দেড় কোটি ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে।
নানা কারণে পাঁচ রাজ্যের এসআইআরে যাচাইকরণের প্রক্রিয়ার সময়সীমা কিছুটা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। সেই তালিকায় রয়েছে দিল্লি, পঞ্জাব, তেলঙ্গানা, কর্নাটক এবং মহারাষ্ট্র। সেই কারণে এই পাঁচ রাজ্যের খসড়া তালিকা এখনও প্রকাশ করেনি কমিশন। অন্য দিকে নাগাল্যান্ড এবং ত্রিপুরায় ভোটার তালিকা যাচাইপ্রক্রিয়া শেষ হলেও ওই রাজ্যের খসড়া তালিকাও প্রকাশ করা হয়নি এখনও পর্যন্ত।
কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যে ১২টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানকার মোট ভোটার ছিলেন ১৩ কোটি ৭৭ লক্ষ ২৭ হাজার ৮০৭ জন। মৃত বা অন্যত্র চলে গিয়েছেন কিংবা অনুপস্থিত— এমন নানা কারণে এখনও পর্যন্ত ওই ১২ জায়গায় নাম বাদ পড়েছে এক কোটি ৫৮ লক্ষ ৫৯ হাজার ৮৩৪ জন। অর্থাৎ, মোট ভোটারের ১১.৫১ শতাংশ বাদ পড়েছেন।
আরও পড়ুন:
কমিশনের মতে, চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় সেই সংখ্যা আরও অনেকটাই বাড়তে পারে। সবচেয়ে বেশি নাম বাদ পড়েছে অন্ধ্রপ্রদেশে (৪৪ লক্ষ ৮৯ হাজার)। তার পরেই রয়েছে হরিয়ানা (৩৩ লক্ষ ৮৩ হাজার), ওড়িশা (২০ লক্ষ ১২ হাজার)। সবচেয়ে কম নাম বাদ পড়েছে সিকিমে (৩৭ হাজার ৭২৪)।
বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাড়াহুড়ো করে এসআইআর করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছিল পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন তৃণমূল সরকার। এসআইআর নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত ছিল চরমে। এমনকি, এসআইআর নিয়ে মামলা গড়ায় সুপ্রিম কোর্টেও। দফায় দফায় শুনানি হয়। ভোট মিটে যাওয়ার পরেও বিবেচনাধীন তালিকায় থাকা ভোটারদের নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের তত্ত্ববধানে সেই কাজ চলছে।