আইসা সভানেত্রী নেহা বোরার আর্জি শুক্রবার খারিজ করে দিয়েছে দিল্লি হাই কোর্ট। রাজধানীর স্পেশ্যাল এগ্জ়িকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (এসইএম) বলেছিলেন, নেহাকে আদালতে হাজির হয়ে ১০ হাজার টাকার বন্ড এবং শান্তি ভঙ্গ না করার মুচলেকা দিতে হবে। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে নেহার যুক্তি ছিল, ম্যাজিস্ট্রেটের নোটিসে ভুল তথ্য রয়েছে। তিনি শান্তি ভঙ্গ করতে পারেন, এই দাবির পক্ষে কোনও যুক্তি দেওয়া হয়নি। নেহার সেই বক্তব্য খারিজ করে দেয় দিল্লি হাই কোর্ট। আজ সাংবাদিক বৈঠকে নেহা জানান, শান্তি বজায় রাখার মুচলেকায় তিনি সই করবেন না।
নেহার কথায়, সরকারকে প্রশ্ন করা বা সরকারের বিরোধিতা করা গণতন্ত্রের মূল কথা। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকার বিরোধিতাকে আর যাই হোক শান্তি নষ্ট করার চেষ্টা বলে ধরা যেতে পারে না। যে ব্যবস্থায় সরকারকে প্রশ্ন করা অপরাধ, সেখানে কোন শান্তি বজায় রাখার কথা বলা হচ্ছে তা তিনি জানেন না। তাই শান্তি-মুচলেকায় সই করার কোনও কারণ থাকতে পারে না বলে মনে করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ‘‘এ ধরনের চুক্তিতে সই করলে ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন বন্ধ করতে একই পদ্ধতি ব্যবহার করার সুযোগ তৈরি হবে।’’ নেহা বলেন, ‘‘ভারতের মতো বিশাল দেশে সাধারণ মানুষের কাছে গণতন্ত্রের দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। প্রথমত, ভোট দেওয়ার অধিকার। দ্বিতীয়ত, নিজেদের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধার উপর আক্রমণ হলে প্রতিবাদ জানানোর স্বাধীনতা। বর্তমানে এই দুই অধিকারই চ্যালেঞ্জের মুখে। বিশেষ করে এসআইআর-এ সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার খর্ব করা হচ্ছে।
আজ বিকেলে নেহা মন্দির মার্গ থানায় বিশেষ এগ্জ়িকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজিরা দেন। শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা রয়েছে বলে পুলিশ যে দাবি করেছে, তার সমর্থনে জমা দেওয়া নথিপত্র ম্যাজিস্ট্রেট নেহার আইনজীবীকে দেন। নোটিসের জবাব দেওয়ার জন্য তাঁকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। তাঁর আইনজীবী অভীক চিমনির কথায়, ‘‘আমাদের আবেদন হাই কোর্ট খারিজ করেছে। তবে আদালত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে। সম্ভাব্য শান্তিভঙ্গের আশঙ্কার কথা বলতে গিয়ে পুলিশ যে সমস্ত নথি ও তথ্যের উপর নির্ভর করেছে, সেগুলি আমাদের দিতে হবে বলে আদালত জানিয়েছে। আজ ম্যাজিস্ট্রেটকে হাই কোর্টের রায় দেখাই। তিনি আমাদের সমস্ত নথি দিয়েছেন। ২৯ তারিখ, পরবর্তী শুনানির আগে আমরা সেগুলিখতিয়ে দেখব।’’
প্রসঙ্গত, মন্দির মার্গ থানায় নেহা ঢোকার আগে সেখানে জমায়েত তৈরি হয় এবং নেহার বিরুদ্ধে স্লোগান ওঠে। পরে সমাজমাধ্যমে নেহার প্রশ্ন, ‘‘থানার বাইরে দক্ষিণপন্থী জনা পঞ্চাশেক গুন্ডা হিংসার হুমকি দিল, দিল্লি পুলিশের কাছে সেটা শান্তিভঙ্গ নয়, অথচ শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে অশান্তি হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।’’