এশিয়ার দুই শক্তিধর দেশ— চিন এবং ভারত একসঙ্গে কাজ করুক। পরস্পরের ক্ষমতাকে কাজে লাগাক। শনিবার দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে বৈঠকে এই বার্তাই দিলেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। গলওয়ান সংঘাতের পর এই প্রথম বার ভারতের মাটিতে মুখোমুখি বসলেন দুই রাষ্ট্রনেতা। দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয়ের পাশাপাশি পারস্পরিক সহযোগিতার সম্ভাবনাময় দিকগুলি নিয়েও আলোচনা হল বৈঠকে।
২০২৪ সালে রাশিয়ার কাজ়ানে মুখোমুখি বসেছিলেন মোদী এবং জিনপিং। ওই বৈঠকের পর থেকেই ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে ধীরে ধীরে উন্নত হতে শুরু করে। দু’দেশের মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা এখনও রয়ে গিয়েছে। তবে সম্পর্ক মসৃণ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে উভয় পক্ষই। এ দিনের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদীও জানান, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, “দু’দেশকেই পারস্পরিক স্বার্থ, শ্রদ্ধা এবং সংবেদনশীলতা— এই তিনটি বিষয়ের উপরে জোর দিতে হবে।” ভারত এবং চিনের মতপার্থক্য যেন কখনওই দু’দেশের বিবাদে পরিণত না হয়, তার উপরেও জোর দেন মোদী এবং জিনপিং।
দিল্লির বৈঠকে চিনা প্রেসিডেন্ট বলেন, “একে অপরের ক্ষমতা থেকে শিক্ষা নিয়ে যৌথ উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করতে পারে ভারত এবং চিন।” বেজিং যে দিল্লির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি এবং কৌশলগত একটি কূটনৈতিক সম্পর্ক চাইছে, তা-ও স্পষ্ট করেন জিনপিং। অন্য দিকে প্রধানমন্ত্রীও বুঝিয়ে দিয়েছেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নত করতে হলে সীমান্ত পরিস্থিতি শান্ত এবং স্থিতিশীল থাকতে হবে।
গলওয়ান সংঘাত পরবর্তী সময়ে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নত করতে বার বার আগ্রহ দেখিয়েছে চিন। দু’দেশের শক্তির কথা বোঝাতে ‘হাতি’ এবং ‘ড্রাগন’-এর উপমাও ব্যবহার করেছে তারা। বেজিং সাম্প্রতিক অতীতে বিভিন্ন সময়ে দাবি করেছে, ড্রাগন এবং হাতির মধ্যে সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক দুই দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। আমেরিকা-চিন শুল্কযুদ্ধের সময়েও এই উপমা ব্যবহার করেছিল তারা। বলেছিল, “ড্রাগন এবং হাতিকে একসঙ্গে নাচিয়ে দিতে হবে। একে অপরের বিরুদ্ধে কথা না-বলে পরস্পরকে সাহায্য করতে হবে। তাতেই দুই দেশের ফয়দা। যদি এশিয়ার বৃহত্তম দুই অর্থনীতি একজোট হয়, সমগ্র বিশ্বের পক্ষেই তা লাভজনক।”
আরও পড়ুন:
এ দিনের বৈঠকের আগে দিল্লির চিনা রাষ্ট্রদূত শু ফেইহং-ও বন্ধুত্বের বার্তা দিয়েছেন। বলেছেন, ‘‘জিনপিং ও মোদীর কৌশলগত নির্দেশনায় চিন, ভারত মিলেমিশে কাজ করবে। দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিকোণ থেকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাব আমরা। দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ এবং সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাবে।’’ মতপার্থক্য হলে তা সামাল দেওয়ার বার্তাও দেন চিনা রাষ্ট্রদূত।
২০১৯ সালে শেষ বার ভারতে এসেছিলেন জিনপিং। তার পরে ২০২০ সালের গলওয়ান সংঘাতের পর দু’দেশের মধ্যে সম্পর্কে শৈত্য তৈরি হয়। কেন্দ্র করে মাসের পর মাস দুই দেশের সম্পর্ক ছিল তলানিতে। শেষে ২০২৪ সালে রাশিয়ার কাজ়ানে বৈঠকে বসেন দুই রাষ্ট্রনেতা। সেই থেকে কূটনৈতিক সম্পর্ককে নতুন করে ঘুরে দাঁড় করানোর চেষ্টা শুরু করে ভারত এবং চিন। গত বছরেও চিনের তিয়ানজিনে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বসেন তাঁরা। এ বার দিল্লিতে ফের এক বার মুখোমুখি হলেন এশিয়ার দুই শক্তিধর দেশের রাষ্ট্রনেতা।