ত্রিদেশীয় সফরের প্রথম রাষ্ট্র হিসেবে আজ সন্ধ্যায় ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় পৌঁছলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এর পরে অস্ট্রেলিয়া এবং নিউ জ়িল্যান্ডে যাবেন তিনি। বিনিয়োগ, বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং বিরল খনিজের ক্ষেত্রগুলিতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি, ভারত এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় ক্ষেত্রে অংশীদার রাষ্ট্রগুলির সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি অগ্রাধিকার পাবে চলতি সফরে।
বিমানবন্দরে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোয়ো সুবিয়ান্তো স্বাগত জানিয়েছেন মোদীকে। সঙ্গে বিশেষ সৌজন্য নজির হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চার জন মন্ত্রীও। মোদীর বিশেষ বিমান ইন্দোনেশিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশের পর সে দেশের যুদ্ধবিমানের ঝাঁক তাঁকে অভ্যর্থনা জানিয়ে অবতরণ করায়। জাকার্তা পৌঁছে মোদী লিখেছেন, ‘২০১৮ সালে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে সামগ্রিক কৌশলগত সম্পর্কে উন্নীত করেছিলাম। আমাদের দেশবাসী যার ফলে উপকৃত হয়েছেন। চলতি সফরে আমি এবং প্রেসিডেন্ট সুবিয়ান্তো বিভিন্ন ক্ষেত্রে অংশীদারিকে আরও পোক্ত করার জন্য গতি আনব’।
কূটনৈতিক শিবিরের মতে, এমন একটা সময়ে মোদী ইন্দোনেশিয়া সফর করছেন, যখন আমেরিকা চিনের সঙ্গে সম্পর্ককে ফিরে দেখার চেষ্টা করছে। ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় কূটনীতিতে চিনের দাপটে অস্থির সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলি যার মধ্যে ইন্দোনেশিয়া অন্যতম। বেজিং নির্ভরতা কমিয়ে দেশগুলি চাইছে আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে বিকল্পের সন্ধান করতে। ভারতের ‘পূর্বে তাকাও’ নীতির প্রশ্নেও প্রধানমন্ত্রীর চলতি সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
ভারত এবং ইন্দোনেশিয়ার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য (২০২৫-২৬) পৌঁছেছে ২৪৭৮ কোটি ডলারে, যদিও ইন্দোনেশিয়ার ভারতে রফতানির পরিমাণই বেশি। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে সমতা আনা নিয়েও এ বার সচেষ্ট হচ্ছে নয়াদিল্লি। সূত্রের মতে, মোদীর সফর কালে বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক সই হবে— যার মধ্যে স্বাস্থ্য পরিষেবা, ওষুধ, শিক্ষা, মহাকাশ-সহঅন্যান্য খাতের গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং প্রাকৃতিক সম্পদ সংক্রান্তচুক্তিও রয়েছে।