ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন নয়াদিল্লিতে শুরু হওয়ার ঠিক ১১ দিন আগে কিরঘিজ়স্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজ়েশন (এসসিও)-এর ২৬তম শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে করমর্দনের ‘কূটনৈতিক ত্রিভুজ’ তৈরি করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই ত্রিভুজের এক দিকে মূল উদ্যোক্তা মোদী। অন্য দু’দিকে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এক কথায়, মোদী একই সঙ্গে ধরলেন এমন দুই নেতার হাত, যাঁরা ঘোষিত ভাবেই ভারতের কৌশলগত মিত্র আমেরিকা তথা সে দেশের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোর বিরোধী। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে, এই ত্রিভুজের বার্তা ট্রাম্প কী ভাবে নেবেন এবং আখেরে তাতে নয়াদিল্লির কী লাভ হবে? না কি ব্রিকস শেষ হলে ফের শুল্ক চাপানোয় তৎপর হবেন পূর্বাভাসহীন কূটনীতিতে দক্ষডোনাল্ড ট্রাম্প।
আজ বিশকেকের ‘ইরিস ওর্দো কংগ্রেস হল’-এ শীর্ষ সম্মেলনের ফটোসেশনের ফাঁকেই মোদীকে এগিয়ে আসতে দেখা যায় শি-র দিকে। করমর্দন করে সৌজন্য বিনিময়ের ফাঁকেই সেখানে পৌঁছে যান পুতিন। মোদী শি-র হাত ধরে রেখেই অন্য হাতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের হাত ধরে তাঁর সঙ্গেও বাক্য-বিনিময় করেন। গোটা ফ্রেমটি কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয়। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে এসসিও সম্মেলনস্থলে রাশিয়া-সহ আরও কয়েকটি দেশের প্রধানদের সঙ্গে মোদী পার্শ্ববৈঠকে মিলিত হলেও শি-র সঙ্গে তাঁর কোনও বৈঠক হল না। কেন হল না, তার কোনও স্পষ্ট কারণ যেমন পাওয়া যায়নি, তেমনই এখনও চিন বা আয়োজক রাষ্ট্র ভারতের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত ঘোষণা করা হয়নি, শি জিনপিং নিজে ব্রিকস-এ যোগ দিতে আসবেন কি না।
যদিও সূত্র বলছে, এ বারের সম্মেলনে চিনা প্রেসিডেন্টের না-আসার কোনও কারণ নেই। প্রকৃতপক্ষে, ব্রিকসভুক্ত রাষ্ট্রগুলির মধ্যে অধিকাংশই চিনের সুরে সুর মিলিয়ে আমেরিকার ডলারের উপরে নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব মুদ্রা (যেমন রুপি, ইউয়ান, রুবল, দিরহাম) ব্যবহার করে লেনদেনের উপরে বেশিজোর দিচ্ছে।
মিশর, ব্রাজ়িল, রাশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশগুলিকে সঙ্গে নিয়ে চিন এ বিষয়ে আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনে জোরালো ভাষ্য তৈরি করতে পারে। তা ভারতের পক্ষে সুখকর না-হলেও (ভারতের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক ওঠাপড়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, বাণিজ্য-চুক্তি ঝুলে রয়েছে দীর্ঘদিন) আয়োজক দেশ হিসেবে ঐকমত্যের সাফল্যকে নয়াদিল্লির না-মেনে উপায় নেই বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল। আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনের মঞ্চকে বর্তমান ভূকৌশল এবং বিশ্ব অর্থনীতির প্রেক্ষিতে আমেরিকা-বিরোধী একটি ক্লাবে পরিণত করতে চেষ্টার ত্রুটি থাকব না বেজিংয়ের। ফলে রাশিয়া এবং চিনের মতো দুই বৃহৎ শক্তিকে দুই করতলে নিয়ে কোন কূটনৈতিক দরকষাকষি নয়াদিল্লি আগামী দিনে করতে পারে, এ বার সেটাই দেখার।