‘আমার বন্ধু মেলোনি।’
ইটালির যুদ্ধ-পরবর্তী ইতিহাসে একটানা দীর্ঘতম দেশের প্রধানের দায়িত্বে থাকার (টানা ১,৪১৩ দিন) রেকর্ড গড়েছেন জর্জিয়া মেলোনি। তাঁর জন্য লেখা শুভেচ্ছা চিরকুটে এমনটাই বলেছেন প্রধানমন্ত্রীনরেন্দ্র মোদী।
কূটনীতিতে আলিঙ্গন, উষ্ণ শরীরী ভাষা, করমর্দনের প্রাবল্য, তাঁর মতো করে কোনও প্রধানমন্ত্রীকে করতে দেখা যায়নি। অতি সম্প্রতি বিশকেকে এসসিও বৈঠকের মঞ্চে তিনি এক হাতে চিনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে করমর্দন করতে করতেই, সামনে চলে আসা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে উল্টো হাতেকরবদ্ধ করেছেন।
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধী প্রধানমন্ত্রীর এই বিদেশনীতির ‘উষ্ণতা’ নিয়ে কটাক্ষ করে বিতর্ক তৈরি করেছেন। তিনি বলেছেন, “বিদেশ নীতি মানে অন্য দেশের রাজনীতিবিদদের জড়িয়ে ধরা বা কোলাকুলি করা নয়।” নিজের বক্তব্য বোঝাতে তিনি নাটকীয় ভাবে মঞ্চে থাকা কংগ্রেস নেতা সন্দীপ দীক্ষিতকে জড়িয়ে ধরেন। বিষয়টি মেলোনির সঙ্গে মোদীর বন্ধুত্বের উল্লেখ পর্যন্ত গড়ালে বিজেপি তীব্র সমালোচনা করে, রাহুলের এই ধরনের আচরণ ও মন্তব্যকে ‘অপরিণত’, ‘অশালীন’ এবং ‘নিম্নরুচির’ বলে। তাদের অভিযোগ, এক জন বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানকে এ ভাবে ঘরোয়া রাজনীতি ও রসিকতার টেনে আনা অত্যন্ত আপত্তিকর।
আজ মেলোনির রেকর্ড স্থাপনের দিন সমাজমাধ্যমে মেলোনিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে মোদী লিখেছেন, ‘‘ইটালির যুদ্ধ-পরবর্তী ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে একটানা দায়িত্ব পালনকারী প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় আমার বন্ধু মেলোনিকে অভিনন্দন। এটা তাঁর নেতৃত্বেরপ্রতি ইটালির জনগণের আস্থা, বিশ্বাসের প্রতিফলন।’’ মোদী জানিয়েছেন, মেলোনির বন্ধুত্ব ভারত-ইটালি বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। লিখেছেন, ‘‘দু’দেশের জনগণের জন্য একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে আমি উন্মুখ। আগামী বছরগুলিতে তাঁর সাফল্যের ধারা যাতে অব্যাহত থাকে, সে জন্য আন্তরিকশুভকামনা জানাই।’’
জবাবে মেলোনি ‘বন্ধু’ বলে সম্মোধনের জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ধন্যবাদ জানিয়ে এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ‘‘আমি নিশ্চিত যে, ইটালি এবং ভারত, দুই দেশের বন্ধনকে দুই মহাদেশের বন্ধনের দিকে নিয়ে যেতে পারবে। যা ভারত-পশ্চিম এশিয়া-ইউরোপের মধ্যে আর্থিক করিডর গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।’’
মোদী-মেলোনির বন্ধুত্বের রসায়ন আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে চর্চার বিষয়। মে মাসে ইটালি সফরে গিয়ে মেলোনিকে ‘মেলোডি’ চকোলেট উপহার দেন মোদী। সেই ছবি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন মেলোনি।