যৌনতার ফাঁদে পড়ে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত তথ্য পাকিস্তানের গোয়েন্দাদের কাছে পাচার করার অভিযোগে তামিলনাড়ুর কোয়েম্বত্তূর থেকে গ্রেফতার করা হল এক নৌসেনাকর্মীকে। টাইমস অফ ইন্ডিয়া-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ধৃতের নাম প্রদীপ মুখোপাধ্যায়। তিনি পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। শনিবার প্রদীপকে গ্রেফতার করে অন্ধ্রপ্রদেশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআই)।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক সপ্তাহ আগে কোয়েম্বত্তূরের রেড ফিল্ডসে আইএনএস অগ্রণী-তে ম্যানেজমেন্ট ডেভেলপমেন্ট কোর্সের প্রশিক্ষণ নিতে গিয়েছিলেন প্রদীপ। অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশের সিআই-এর একটি দল শনিবার তামিলনাড়ুতে পৌঁছোয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে প্রদীপকে চরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেফতার করে তারা। ২০১৪ সালে নৌসেনায় যোগ দেন প্রদীপ। অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে ইস্টার্ন নেভাল কমান্ড-এ কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি কোয়েম্বত্তূরে প্রশিক্ষণ নিতে যান।
আরও পড়ুন:
পুলিশ সূত্রে খবর, মাস কয়েক আগে সমাজমাধ্যমে এক ‘মহিলা’র সঙ্গে পরিচয় হয় প্রদীপের। অভিযোগ, পাকিস্তানি গোয়েন্দা-চক্রের সঙ্গে যুক্ত এক মহিলা ভুয়ো পরিচয়ে সমাজমাধ্যমে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তদন্তকারী সূত্রের খবর, প্রদীপের সঙ্গে অনলাইনে আলাপচারিতা এবং ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে বিশ্বাস অর্জন করেন ওই ‘মহিলা’। তার পর ক্রমে প্রদীপকে যৌনতার জালে ফাঁসানো শুরু করেন। বিশাখাপত্তনমের নৌঘাঁটির কৌশলগত সম্পদ, নৌবহরের গতিবিধি এবং পরিচালন ব্যবস্থা সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য প্রদীপের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে।
অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স দলটি মূলত জঙ্গি মডিউল, আন্তঃসীমান্ত চরবৃত্তি এবং উচ্চ নিরাপত্তা-সংক্রান্ত হুমকির বিরুদ্ধে নজরদারি চালায়। সেই নজরদারির সময়ে ডিজিটাল মাধ্যমে সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ করে তারা। তাঁদের নজরে আসে, নৌঘাঁটির সঙ্গে যুক্ত সংবেদনশীল তথ্য ডিজিটাল মাধ্যমে পাচার করা হচ্ছে বলে সন্দেহ রয়েছে। বিষয়টি সুনিশ্চিত হতে সন্দেহভাজন নৌসেনাকর্মী প্রদীপের গতিবিধির উপর নজরদারি শুরু হয়। এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পরই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রদীপকে হেফাজতে নেওয়ার অনুমতি চায় সিআই দল। সেই অনুমতি পাওয়ার পরই শনিবার তামিলনাড়ু থেকে গ্রেফতার করা হয় প্রদীপকে। কী ধরনের এবং কতটা প্রতিরক্ষা-তথ্য পাচার করা হয়েছে, পাশাপাশি কোনও আর্থিক লেনদেন হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।