লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস বিলে এনসিপি (শরদ)-এর সমর্থন পাবে কি কেন্দ্র? গুঞ্জন আগে থেকেই চলছিল। এ বার তা আরও বৃদ্ধি পেল দিল্লির এক বৈঠকে। বুধবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দফতরে গিয়ে তাঁর সঙ্গে বৈঠক সারলেন শরদ পওয়ার। বর্ষীয়ান নেতার কন্যা তথা সাংসদ সুপ্রিয়া সুলেও ছিলেন বৈঠকে।
এনসিপি (শরদ) এখনও পর্যন্ত বিরোধীজোট ‘ইন্ডিয়া’-তেই রয়েছে। তবে তারা শিবির বদলে শাসকজোটে যেতে পারে, এমন জল্পনাও ছড়িয়েছে। শিবির বদলের সম্ভাবনা অবশ্য শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছে এনসিপি। আবার এনসিপির দুই গোষ্ঠীর (প্রয়াত অজিত পওয়ারের এনসিপি বর্তমানে রয়েছে শাসকজোট ‘এনডিএ’-তে) পুনর্মিলনের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। এমন এক পরিস্থিতিতে মোদী-শরদ বৈঠকের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
বুধবারের বৈঠকের বেশ কিছু ছবি ইতিমধ্যে প্রকাশ্যে এসেছে। একটিতে দেখা যাচ্ছে, শরদের হাত ধরে নিজের দফতরের একটি কক্ষে স্বাগত জানাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের কৃষকদের সমস্যা এবং সেচ সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে একটি স্মারকলিপি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন শরদ।
সূত্রের দাবি, কেন্দ্র ফের সংসদে আসন পুনর্বিন্যাস বিল নিয়ে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেই সময়ে মোদী-শরদ বৈঠক তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকার প্রতিশ্রুতিমতো পদক্ষেপ করলে বিলে সমর্থনের আভাস আগেই দিয়েছে শরদের দল।
গত এপ্রিলে সংসদে দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন পায়নি কেন্দ্রের আসন পুনর্বিন্যাস বিল। তার পর থেকেই খবর ছড়ায়, বিরোধী শিবিরের বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে কেন্দ্র। এনসিপি (শরদ)-র সঙ্গেও আলোচনা চলছে তাদের। বর্তমানে লোকসভায় আট জন সাংসদ রয়েছে এনসিপি (শরদ)-এর। বিল পাশ করাতে তাঁদের সমর্থন কেন্দ্রের জন্য লাভজনক হতে পারে।
আরও পড়ুন:
সূত্রের খবর, কেন্দ্র অবিজেপি দলগুলির সঙ্গে বৈঠকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে আসন পুনর্বিন্যাস বিলে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে। সব রাজ্যেই আসনসংখ্যা ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির একটি প্রস্তাব দিয়েছে কেন্দ্র। এ অবস্থায় গত সপ্তাহেই শরদ-কন্যা সুপ্রিয়া ইঙ্গিত দিয়েছেন, সব রাজ্যে আসন ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি হলে সেই বিলে সমর্থন দিতে পারেন এনসিপি (শরদ)। তিনি বলেন, “৫০ শতাংশের শর্তটি লিখিত ভাবে দিন, তারপর আমরা আলোচনা করব।”
গত বুধবার সুপ্রিয়া জানান, এই বিল নিয়ে আলোচনার জন্য সম্প্রতি একটি সর্বদল বৈঠক ডেকেছিলেন সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজুজু। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সুপ্রিয়া নিজেও বৈঠকে ছিলেন। এনসিপি (শরদ) সাংসদের দাবি, ৫০ শতাংশ আসন বৃদ্ধির বিষয়টি বিলে অন্তর্ভুক্ত করার একটি প্রস্তাব দিয়েছে কেন্দ্র। তিনি বলেন, “বিলটি এখনও আমাদের কাছে এসে পৌঁছোয়নি। বিলটি হাতে না আসা পর্যন্ত আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারব না।” তাঁর মতে, শুধু জনসংখ্যার নিরিখে আসন পুনর্বিন্যাস হলে তা দক্ষিণের রাজ্যগুলির প্রতি অবিচার হবে।
বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ শুরু থেকেই আসন পুনর্বিন্যাস বিলের বিরোধিতা করে আসছে। তাদের বক্তব্য, ২০১১-র জনগণনার নিরিখে আসন পুনর্বিন্যাস হলে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির আসন ৫০ শতাংশ বাড়বে না। কারণ, দক্ষিণের রাজ্যগুলির জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার হিন্দি বলয়ের তুলনায় কম। ফলে লোকসভায় দক্ষিণের রাজ্যগুলির প্রতিনিধিত্ব তুলনামূলক ভাবে কমে যাবে। বিরোধীদের আরও অভিযোগ ছিল, মোদী সরকার এমন ভাবে আসন পুনর্বিন্যাস করতে চাইছে, যাতে হিন্দি বলয়ের রাজ্যগুলিতে ভাল ফল করলেই ২০২৯-এ ক্ষমতায় ফিরতে পারে।