ইরানের সঙ্গে সভ্যতাগত এবং আবেগসঞ্জাত সম্পর্ক তার নিজের জায়গায়। কিন্তু যে ভাবে ভারতকে প্রাণের মাসুল দিতে হচ্ছে, তা একেবারেই ‘মেনে নেওয়া যায় না’। অবিলম্বে হিংসা বন্ধ করে কূটনীতির রাস্তায় ফিরতে হবে— নয়াদিল্লি জানাল তেহরানকে।
মঙ্গলবার সকালেই হরমুজ় প্রণালীতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দু’টি তৈলবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান। এই হামলায় একজন ভারতীয় নাবিক নিহত এবং আরও আট জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ছ’জন ভারতীয় ও দু'জন ইউক্রেনীয় নাগরিক রয়েছেন। চার জনের অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।
এই পরিস্থিতিতে ইরান দূতাবাসের উপরাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ জাভেদ হুসেনিকে ডেকে পাঠিয়ে সতর্ক করল ভারত। এর পর একটি বিবৃতি দিয়ে ঘটনার ঘোর নিন্দা করেছে বিদেশ মন্ত্রক। বলা হয়েছে, “নাবিকদের উপর হামলা এবং হরমুজ় প্রণালীর মতো আন্তর্জাতিক জলপথে অবাধ যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটানোর আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। পশ্চিম এশিয়ায় ফের সংঘাত বৃদ্ধির ঘটনাতেও আমরা উদ্বিগ্ন। অবিলম্বে উত্তেজনা প্রশমিত করে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা জরুরি, যাতে শান্তি ফিরে আসে।” একই সঙ্গে বাণিজ্যিক জাহাজ ও অসামরিক পরিকাঠামোর উপরে হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে ভারত আন্তর্জাতিক আইন মেনে অবাধ ও নিরাপদ নৌ-চলাচল দ্রুত পুনরায় চালু করার দাবি জানিয়েছে।
প্রসঙ্গত রবিবারও ভারতীয় নাবিকবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছিল ইরান। সেই হামলার পরেও নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছিল নয়াদিল্লি। আজ এই প্রসঙ্গে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জায়সওয়াল বলেন, “পশ্চিম এশিয়ার ঘটনাবলির উপরে আমরা সতর্ক নজর রাখছি। হরমুজ় প্রণালী দিয়ে অবাধ ও নিরাপদ বাণিজ্যের আহ্বান জানিয়ে আসছি।”
অন্য দিকে হামলার পরে ইরানি সেনা একটি বিবৃতিতে দাবি করেছে, তাদের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেই হরমুজ় দিয়ে এগোচ্ছিল জাহাজগুলি। দিকনির্ণয় ব্যবস্থা বন্ধ করে মাইন-পাতা পথ দিয়ে এগোনোর চেষ্টা করছিল দু’টি ট্যাঙ্কার। তাই সেগুলিতে হামলা করে অচল করে দেওয়া হয়েছে। আবু ধাবির পাল্টা অভিযোগ, এটি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।
আমিরশাহি প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও নাগরিক সুরক্ষার স্বার্থে এই পরিস্থিতির উপযুক্ত জবাব দেওয়ার পূর্ণ অধিকার তাদের রয়েছে। সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে বলে খবর।
হরমুজ়ে তেলবাহী জাহাজে হামলাকে একটি বৃহত্তর নিরাপত্তা সঙ্কট বলেই দেখা হচ্ছে। এর আগে জুন মাসে ওমান ও হরমুজ় প্রণালীর প্রবেশপথের কাছে আমেরিকা তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজের উপর হামলা চালায়। এই তিনটি জাহাজেই মূলত ভারতীয় নাবিকরা কর্মরত ছিলেন। ভারতের সামুদ্রিক শ্রমিক সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত এই যুদ্ধের জেরে নিহত ভারতীয় নাবিকের সংখ্যা ১৪ ছাড়িয়েছে।