Advertisement
E-Paper

ফর্ম ৬-এ জুড়ল নতুন বিভাগ! বাবা-মায়ের এসআইআর তথ্য না দিলে ভোটার তালিকায় নাম উঠবে না সন্তানের? জল্পনা

দেশের ১০ রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার পর তালিকা থেকে ইতিমধ্যে বাদ গিয়েছে ৫.৫৮ কোটির বেশি নাম।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৬ ১৫:০২
ভোটার তালিকায় নতুন করে নাম তোলার ফর্ম নিয়ে বিতর্ক।

ভোটার তালিকায় নতুন করে নাম তোলার ফর্ম নিয়ে বিতর্ক। ছবি: পিটিআই।

ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করার ফর্মে জোড়া হয়েছে নতুন বিভাগ। ফর্ম ৬-এর অনলাইন সংস্করণে আবেদনকারীর বাবা-মায়ের এসআইআর সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হচ্ছে। এমনটাই দাবি করা হয়েছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি রিপোর্টে। এখনও ফর্ম ৬-এর মুদ্রিত (অফলাইন) সংস্করণে ওই বিভাগ পাওয়া যায়নি। তবে এ নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, তবে কি বাবা-মায়ের এসআইআর সংক্রান্ত তথ্য না দিলে সন্তানের নামও ভোটার তালিকায় উঠবে না? নির্বাচন কমিশনের তরফে এখনও এর কোনও ব্যাখ্যা মেলেনি।

দেশের ১০ রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার পর তালিকা থেকে ইতিমধ্যে বাদ গিয়েছে ৫.৫৮ কোটির বেশি নাম। এর মধ্যে মৃত, নিখোঁজ, স্থানান্তরিত ভোটারেরাও আছেন। পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনেকের নাম বিবেচনাধীন তালিকায় রয়েছে। ২৭ লক্ষ মানুষ ভোটই দিতে পারেননি ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে। তাঁদের আবেদন ট্রাইবুনালে বিবেচনাধীন। অনলাইনের ফর্ম ৬-এ নতুন বিভাগ জোড়ার পর প্রশ্ন—এই বাদ পড়া বা বিবেচনাধীন ভোটারদের সন্তানেরা ভোটার তালিকায় নাম তোলার সুযোগ কি আদৌ পাবেন?

নির্বাচন কমিশনের ইসিআইনেট পোর্টালে ফর্ম ৬-এর অনলাইন সংস্করণে শনিবার পর্যন্ত দেখা গিয়েছে, ‘জে’ এবং ‘কে’ বিভাগের মাঝে ‘ঘোষণাপত্র’ নামের একটি বিভাগ যুক্ত করা হয়েছে। সেখানেই আবেদনকারীর বাবা-মায়ের তথ্য চাওয়া হচ্ছে। এসআইআর-এ আবেদনকারীর বাবা-মায়ের অবস্থান কী, জানাতে হবে ওই অংশে। এই বিভাগে তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক বলে চিহ্নিত করা হয়নি। তবে তা পূরণ না করলে ফর্মের পরবর্তী ধাপে যাওয়াও যাচ্ছে না। একই পোর্টালের একই ফর্ম অফলাইনে ব্যবহারের জন্য ডাউনলোড করা হলে কিন্তু সংযুক্ত অংশটি আর দেখা যাচ্ছে না।

ফর্মের নতুন বিভাগে আবেদনকারীকে তিনটি বিকল্প বাছাইয়ের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রথম, আমার নাম গত বছরের এসআইআরের তালিকায় রয়েছে। দ্বিতীয়, আমার বাবা-মা, ঠাকুমা-ঠাকুরদার নাম গত বছরের এসআইআরের তালিকায় রয়েছে। তৃতীয়, আমার বা আমার বাবা-মায়ের নাম গত বছরের এসআইআরের তালিকায় নেই। প্রথম দু’টি বিকল্প বাছলে আবেদনকারীকে বাবা-মায়ের বিধানসভা কেন্দ্রের নাম, বুথ নম্বর এবং এসআইআরের সিরিয়াল নম্বর জানাতে হচ্ছে। যদি কেউ তা না-খুঁজে পান, তবে তাঁকে তৃতীয় বিকল্পটিকেই বেছে নিতে হবে। সে ক্ষেত্রে আবেদনটি গ্রাহ্য হবে কি না, কমিশনের পোর্টালে তার কোনও উল্লেখ নেই।

যে সমস্ত রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, সেখানেই অনলাইন ফর্মে এই নতুন বিভাগ রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম বিহার এবং অসম। অসমে এসআইআর না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। বিহারে ওই প্রক্রিয়া গত বছরের জুন মাসেই সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে।

এসআইআর পর্বে ফর্ম ৬-এর কোনও সংশোধন করা হয়নি। জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০-এর ২৮ নম্বর ধারা অনুযায়ী, কোনও নিয়ম জারি করার ক্ষমতা রয়েছে কেবল কেন্দ্রীয় সরকারের। তেমনই একটি নিয়মের ভিত্তিতে ফর্ম ৬-এর উৎপত্তি। সংবিধান অনুযায়ী, কোনও নির্দিষ্ট নির্বাচনী এলাকার প্রাপ্তবয়স্ক যে কোনও নাগরিকেরই ভোটার তালিকাভুক্ত হওয়ার অধিকার রয়েছে। জনপ্রতিনিধি আইনের ২৮ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, ‘‘কেন্দ্রীয় সরকার প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ করে এবং সরকারি গেজ়েট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই আইনের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য বিধি প্রণয়ন করতে পারবে।” এর আগে ফর্ম ৬-এ কোনও পরিবর্তন করার জন্য সংসদীয় পদ্ধতিতে মূল আইনে সংশোধন করতে হত কিংবা আইন ও বিচার বিভাগকে সংশোধনীর বিজ্ঞপ্তি জারি করতে হত। নতুন পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এখনও তেমন কিছু করা হয়নি। কমিশনের দুই প্রাক্তন কর্তা নাম প্রকাশ না-করে দাবি করেছেন, কমিশন নিজে থেকে ফর্মে একটি কমাও যোগ করতে পারে না। এ ক্ষেত্রে কী করা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

Form Fill-Up SIR New Voter

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy