রাজস্থানের জয়পুরে স্ত্রী এবং তিন কন্যাকে খুনের ঘটনায় নয়া তথ্য পেল পুলিশ। অভিযুক্তকে জেরা করে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। জয়পুর পশ্চিমের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার প্রশান্ত কিরণ জানিয়েছেন, অভিযুক্ত রাহুল ঝা-কে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, স্ত্রী গীতা এবং তিন কন্যাকে খুনের পর বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যান রাহুল। তার পর একটি টোটোতে চেপে কাছেই হনুমান মন্দিরে যান। সেখানে কিছুক্ষণ সময় কাটান। তার পর সেখান থেকে এলাকারই আরও একটি মন্দির দর্শন করেন। সেখানেও প্রায় দেড় ঘণ্টা ছিলেন। তার পর বাস ধরে তিনি সীকর জেলায় একটি মন্দিরে পৌঁছোন। বাড়ি থেকে বার হওয়ার সময় ৮০০ টাকা নিয়ে বেরিয়েছিলেন রাহুল। বাস, টোটো ভাড়া এবং খাওয়াদাওয়ায় বেশির ভাগ টাকা খরচ হয়ে গিয়েছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, রাহুল যখন সীকরে পৌঁছোন, তখন তাঁর হাতে যৎসামান্য টাকা ছিল। ফলে তিনি এমন একটি জায়গা খুঁজছিলেন যেখানে সহজে লুকোনো যায় এবং বিনা পয়সায় খাবারও পাওয়া যায়। সাদা পোশাকে রাহুলের গতিবিধির উপর নজরদারি চালাচ্ছিল পুলিশ। সীকর থেকে গোপন সূত্রে খবর আসতেই সেখানকার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে জয়পুর পুলিশ। তার পরই রাহুলকে মন্দিরের সামনে থেকে গ্রেফতার করা হয়।
তদন্তকারী সূত্রের খবর, জেরায় রাহুল দাবি করেছেন, তিনি নিজেকেও শেষ করে দিতে চেয়েছিলেন। চলন্ত গাড়ির সামনে ঝাঁপ দিতে গিয়েও শেষমুহূর্তে সরে আসেন। জেরায় রাহুল জানিয়েছেন, তিনি নিয়মিত ‘ক্রাইম সিরিজ়’ দেখতেন। সেখান থেকেই খুনের ছক মাথায় আসে বলে দাবি তাঁর। তদন্তকারীরা আরও জানতে পেরেছেন যে, স্ত্রী এবং বড় মেয়েকে খুনের ছক ছিল তাঁর। খুনের দায়ে জেলে গেলে তাঁর বাকি দুই মেয়েকে কে দেখবে, এই আতঙ্ক থেকেই তাঁদেরও সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন রাহুল। বড় মেয়ে প্রেম করছেন বলেও সন্দেহ করতেন রাহুল। বিষয়টি নিয়ে মানসিক ভাবে বিচলিত ছিলেন। স্ত্রী সব জানতেন বলেও সন্দেহ ছিল তাঁর। আর সেই সন্দেহের বশে দু’জনকে খুন করার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু শেষে পরিবারের সকলকেই খুনের সিদ্ধান্ত নেন। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার স্ত্রী এবং তিন কন্যাকে খুনের অভিযোগ ওঠে রাহুলের বিরুদ্ধে। এই হত্যাকাণ্ড নাড়িয়ে দিয়েছে গোটা জয়পুরকে।