উত্তরাখণ্ডে চপার দুর্ঘটনায় নয়া তথ্য। খারাপ আবহাওয়ার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল। সঙ্গে সমস্ত রকম উড়ান বন্ধেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এমনই দাবি করল রাজ্যের অসামরিক বিমান পরিবহণ দফতর। আর এখান থেকেই প্রশ্ন উঠছে, সতর্কবার্তা পাওয়ার পরেও কেন চপারটিকে ওড়ার অনুমতি দেওয়া হল, তা নিয়ে উড়ান সংস্থাটিকেই কাঠগড়ায় তুলেছে রাজ্য প্রশাসন।
উত্তরাখণ্ড অসামরিক বিমান পরিবহণ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (ইউসিএডিএ) তরফে সিইও সঞ্জয় তোয়লা টাইমস অফ ইন্ডিয়া-কে জানিয়েছেন, গ্রুপ ক্যাপ্টেন অমিত শর্মার তরফে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল। টোয়লার কথায়, ‘‘ ইউসিএডিএ সব সময় দেশের বিমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ-র আইন মেনে চলে। শুক্রবার সেই আইন মেনেই খারাপ আবওহাওয়ার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল। চারধাম যাত্রায় হেলিকপ্টার চালানোয় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। আর সেই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল দুর্ঘটনার এক ঘণ্টা আগে।’’ তোয়লার দাবি, এই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই হেলিকপ্টার চালায় উড়ান সংস্থাটি।
তিনি আরও জানিয়েছেন, ডিজিসিএ-র নিয়ম মেনে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এই ঘটনায় কোথায় খামতি ছিল। এটাও খতিয়ে দেখা হবে, সতর্কবার্তা দেওয়ার পরেও তা কেন অগ্রাহ্য করা হল? এয়ারক্রাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি) এবং ডিজিসিএ-র আধিকারিকেরা দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে সব কিছু খতিয়ে দেখেছেন। তাঁদের রিপোর্টের উপর ভিত্তি করেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। তবে ইউসিএডিএ-র এই ধরনের দাবিকে খণ্ডন করেছেন উড়ান সংস্থার অধিকর্তা এস ভট্টাচার্য। টাইমস অফ ইন্ডিয়া-কে তিনি জানান, এ রকম কোনও নির্দেশের কথা তাঁর জানা নেই। তদন্ত চলছে। আর এ বিষয়ে ইউসিএডিএ-ই যা বলার বলতে পারবে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার বদরীনাথ থেকে পাঁচ পুণ্যার্থীকে নিয়ে দেহরাদূনের দিকে যাচ্ছিল চপারটি। জোশীমঠে হাতি পর্বতে সেটি ভেঙে পড়ে। পাইলট-সহ ছ’জনের মৃত্যু হয় এই দুর্ঘটনায়। মৃত পাঁচ যাত্রী সকলেই কর্নাটকের বাসিন্দা। পাইলট দিল্লির বাসিন্দা।