দিল্লির লালকেল্লা মেট্রোর সামনে গাড়িবোমা বিস্ফোরণের আগে হরিয়ানার আল-ফালহা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এবং অরাবলীর জঙ্গলের বিস্ফোরকের পরীক্ষা করেছিলেন জঙ্গি চিকিৎসকেরা। চার্জশিটে এমনই দাবি করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)।
চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, চিকিৎসক উমর উন নবি, চিকিৎসক মুজাম্মিল শাকিল গনাই এবং চিকিৎসক আদিল আহমেদ দার— এই তিন অভিযুক্ত চিকিৎসক বিস্ফোরক বানানোর পর ফরিদাবাদের বিভিন্ন জায়গায় সেই বিস্ফোরকের পরীক্ষা করা হয়। তবে এই বিস্ফোরক পরীক্ষা শুরু হয়েছিল আল-ফালহার ক্যাম্পাস থেকেই।
চার্জশিটে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গত বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের মধ্যে চিকিৎসক উমর, গনাই এবং আল-ফালহার এক ছাত্র জসির বিলাল ওয়ানি এই তিন জন মিলে আল-ফালহার ক্যাম্পাসে নাইট্রো-গ্লিসারিন পরীক্ষা করেন। আর সেই বিস্ফোরক তৈরি করা হয়েছিল চিকিৎসক গনাইয়ের ফ্ল্যাটে। সেই পরীক্ষা সফল হওয়ার পর আরও বড় ধরনের পরীক্ষার জন্য বিস্ফোরক নিয়ে যাওয়া হয় অরাবলীর জঙ্গলে। ধৌজের জঙ্গলে চিকিৎসক উমর এবং গনাই দু’জনে মিলে ট্রায়াসিটন ট্রাইপারক্সাইড (টিএটিপি)-এর পরীক্ষা করেন। ঘটনাচক্রে, তল্লাশির সময় গনাইয়ের ফ্ল্যাট থেকে এই ধরনের বিস্ফোরক উদ্ধার হয়।
চার্জশিটে বলা হয়েছে, প্রথমে সাধারণ মানের বিস্ফোরক তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু সেই বিস্ফোরককে আরও শক্তিশালী করতে গবেষণাও করা হয়। এনআইএ-র দাবি, আল-কায়েদার মতাদর্শে বিশ্বাসী আনসার গজওয়াত-উল-হিন্দের সদস্যের ১৬ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন আল-ফালহার সহকারী অধ্যাপক চিকিৎসক শাহিন শাহিদ। সেই টাকা গনাইয়ের মাধ্যমে ওই জঙ্গিগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছেছিল। সেই টাকায় একে ৪৭, ক্রিনকভ রাইফেল এবং দু’টি পিস্তলও কেনা হয়। ফরিদাবাদে ধৌজের জঙ্গলে এই অস্ত্রগুলিরও পরীক্ষা করা হয়। পরবর্তী কালে খোরি জামালপুর এবং ধৌজে একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে সেখানে বিস্ফোরক তৈরির রাসায়নিক মজুত করা হয়েছিল। বাজার থেকে সেই বিস্ফোরক তৈরির মশলা ধাপে ধাপে কিনে এনেছিলেন উমর, গনাই, শাহিন এবং ওয়ানি। প্রথমে সেই মশলা নিজেদের ফ্ল্যাটে মজুত করেছিলেন উমরেরা। পরে ধৌজের ভাড়াবাড়িতে নিয়ে যান।
গত বছরের ১০ নভেম্বর দিল্লির লালকেল্লা মেট্রোর সামনে গাড়িবোমা বিস্ফোরণ ঘটান জঙ্গি চিকিৎসক উমর উন নবি। সেই বিস্ফোরণে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ছাড়াও সেই ঘটনায় মৃত্যু হয় ১৫ জনের। আহত হন ২৯ জন।