দিল্লিতে লালকেল্লার কাছে গাড়িবোমা বিস্ফোরণ ভুলবশত হয়নি। ইচ্ছাকৃত ভাবেই ওই বিস্ফোরণটি ঘটানো হয়েছিল। বিস্ফোরণে নিহত জঙ্গি চিকিৎসক উমর নবি জুতো দিয়ে সেই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিলেন। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)-র জমা দেওয়া চার্জশিটে এমনটাই জানানো হয়েছে।
গত ১৪ মে দিল্লির আদালতে ৭,৫০০ পাতার চার্জশিট জমা দেয় এনআইএ। ২৯ অগস্ট সেই চার্জশিট নিয়ে আলোচনা করে দিল্লির আদালত। কী ভাবে গাড়িবোমাটি বিস্ফোরণ হয়, সে বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে ওই চার্জশিটে। এনআইএ জানাচ্ছে, উমর তাঁর জুতোর সঙ্গে একটি পাইজ়োইলেকট্রনিক প্লেট (এক বিশেষ যন্ত্র যা চাপকে বিদ্যুৎশক্তিতে এবং বিদ্যুৎশক্তিকে যান্ত্রিক কম্পনে রূপান্তরিত করে) ব্যবহার করেছিলেন। তাঁর গাড়িতে রাখা ছিল ইমপ্রোভাইজ়ড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি)। পাইজ়োইলেকট্রনিক প্লেট ব্যবহার করে নবি সেটিকে জুতো-নিয়ন্ত্রিত বোমায় পরিণত করেছিলেন।
নবি ঘাবড়ে যাওয়ার ফলে এত দিন ধরে সংশয় ছিল, বিস্ফোরণটি আদৌ ইচ্ছাকৃত ছিল কি না। স্পষ্ট হল, গাড়িবোমা বিস্ফোরণে নিহত জঙ্গি ইচ্ছাকৃত ভাবেই আইইডি ফাটিয়েছিলেন। এবং সেই বোমার ‘সুইচ’ ছিল নবির পায়ের জুতোয়।
চার্জশিটে এনআইএ জানাচ্ছে, ফরেনসিক রিপোর্টে দেখা গিয়েছে গাড়িটিতে আইইডি রাখা ছিল। বিস্ফোরণস্থল থেকে নবির ‘রেড-টেপ’ ব্র্যান্ডের একটি জুতো পাওয়া গিয়েছিল। সেটির গোড়ালির দিকে একটি ধাতব টুকরো পাওয়া যায়। তদন্তকারীদের দাবি, ওই ধাতব টুকরো-সহ জুতোটিই আইইডি ‘কন্ট্রোল’ করার জন্য একটি ‘কমান্ড মেকানিজ়ম’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন:
তদন্তকারীরা এ-ও জানিয়েছেন, ডিএনএ বিশ্লেষণ করে যে দেহাংশগুলি নবির বলে চিহ্নিত হয়েছিল, তার মধ্যে থেকে একটি নাসিকাছিদ্রের সোয়াবের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। ওই নমুনায় ট্রাই-অ্যাসিটোন ট্রাই-পারঅক্সাইড এবং অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (উভয়েই বিস্ফোরক তৈরিতে ব্যবহার হয়) পাওয়া যায়। এনআইএ চার্জশিটে জানাচ্ছে, বিস্ফোরণের সময়ে নবি গাড়ির ভেতরেই ছিলেন। তিনিই জুতোয় থাকা ‘কমান্ড মেকানিজ়ম’ ব্যবহার করে আইইডিটি বিস্ফোরণ করেছিলেন।
গত বছরের ১০ নভেম্বর সন্ধ্যায় লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের এক নম্বর গেটের কাছে একটি গাড়িতে বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, রাস্তা থেকে ৪০ ফুট নীচে থাকা মেট্রো স্টেশনও কেঁপে উঠেছিল। ওই বিস্ফোরণে ১১ জনের মৃত্যু হয়। জখম হন আরও অনেকে। তদন্তে উঠে আসে ফরিদাবাদের ‘চিকিৎসক মডিউল’-এর সংযোগ। এই ‘চিকিৎসক মডিউলের’ সঙ্গে জড়িত একাধিক জঙ্গিকে ইতিমধ্যে পাকড়াও করেছেন তদন্তকারীরা।