ইথানল মিশ্রিত পেট্রল (ই২০) প্রকল্পের লাভ তাঁর ঘরে যাচ্ছে দাবি করে তৈরি হচ্ছে ডিপফেক ভিডিয়ো, এআই নির্মিত কনটেন্ট! এই নিয়ে অভিযোগ জানিয়ে এ বার বম্বে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন নিতিন গডকরী। কেন্দ্রীয় পরিবহণমন্ত্রীকে এই অভিযোগ সংক্রান্ত পিটিশন দায়ের করার অনুমতি দিয়েছে বম্বে হাই কোর্ট। সোমবার হাই কোর্ট জানিয়েছে, তাঁকে জড়িয়ে অবমাননাকর ভিডিয়ো, এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট প্রকাশের অভিযোগে মেটা, গুগল এলএলসি, এক্স-সহ বিভিন্ন সমাজমাধ্যমের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
নিতিন ইথানল মিশ্রিত পেট্রলের পক্ষে বার বার সওয়াল করেছেন। তাঁর এই অবস্থানকে পরিবারের ব্যবসায়িক স্বার্থের সঙ্গে জুড়ে সমাজমাধ্যমে নানা দাবি করা হচ্ছে। সেই অভিযোগ অবশ্য গডকরী অস্বীকার করেছেন। উল্লেখ্য, নিতিনের ছেলেদের ইথানলের ব্যবসা রয়েছে। এই নিয়ে নেটপ্রভাবীরা ভিডিয়ো, কনটেন্ট তৈরি করে তাঁকে আক্রমণ করছেন বলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর অভিযোগ। এ বার সেই অভিযোগ জানিয়ে বম্বে হাই কোর্টে লিভ পিটিশন দাখিল করেন নিতিন। যেহেতু এই ভিডিয়ো, ডিপফেক তৈরি এবং প্রচার শুধু বম্বে হাই কোর্টের দায়রার মধ্যে হয়নি, তাই লেটার্স পেটেন্টের ১২ নম্বর ক্লজ়ের অধীনে লিভ পিটিশন দাখিল করেন তিনি। তাঁর আইনজীবী সন্দীপ এস লাড্ডা কোর্টে জানিয়েছেন, এই ইথানল মিশ্রিত পেট্রলের নীতি নির্ধারণের বিষয়টি কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের আওতাধীন। তার পরেও তাঁর মক্কেলকে নিশানা করে ভিডিয়ো তৈরি করে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করা হচ্ছে। আইনজীবীর সওয়াল, এই ভিডিয়োগুলি সারা দেশের অন্য জায়গার পাশাপাশি মুম্বইয়েও অনেকে দেখছেন, শুনছেন। সে কারণে বম্বে হাই কোর্টের মামলাটি শোনা উচিত। এই সওয়াল শোনার পরে বিচারপতি অভয় আহুজা মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছেন।
সপ্তাহ দুয়েক আগে নাগপুরে চার নেটপ্রভাবীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়। নাগপুরের সাইবার পুলিশ থানায় স্থানীয় বিজেপি নেতা শিশির ত্রিপাঠী অভিযোগ করে জানান, ওই চার জন কেন্দ্রীয় সরকারের ই২০ প্রকল্পের সঙ্গে নিতিনের নাম জড়িয়ে ভুয়ো তথ্য প্রচার করছেন। এফআইআরে নাম রয়েছে ইউটিউবার মণীশ কাশ্যপ, ‘দেশি বয়েজ়’ নামে একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট, নেটপ্রভাবী হর্ষিত রাঠী এবং আঙ্কলিশ ইনভাটির। মণীশ ইউটিউবার-রাজনীতিক হিসাবে পরিচিত।
আরও পড়ুন:
কেন্দ্রের ইথানল ব্লেন্ডিং কর্মসূচি অনুযায়ী, ২০ শতাংশ ইথানল মেশানো হয় পেট্রলে। যা লোকমুখে ই২০ জ্বালানি নামে পরিচিত। কেন্দ্র বর্তমানে ই২০ নীতি চালু রেখেছে। তবে মে মাসে পেট্রলে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ইথানল মেশানোর ক্ষেত্রে নতুন মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়। জুনে ই২২, ই২৫, ই২৭ এবং ই৩০ জ্বালানির ক্ষেত্রেও শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছে। যদিও ই২০-এর বেশি ইথানল মেশানোর কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে সম্প্রতি জানিয়েছে কেন্দ্র।
ই২০ জ্বালানি ব্যবহার করলে গাড়ির মাইলেজ কমে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই প্রসঙ্গে সম্প্রতি গডকরী জানিয়েছেন, সাধারণ গাড়ির মালিক বা চালকেরা কখনওই মাইলেজের সঠিক পরিমাপ করতে পারবেন না। অনুমোদিত ডিলারদের উপরেই নির্ভর করতে হবে তাঁদের।