গত বছর সেপ্টেম্বরে জিএসটি পরিষদে প্রায় সমস্ত পণ্যের উপরেই করের বোঝা কমানো হয়েছিল। তার ফলে জিনিসপত্রের দাম কমে গিয়ে বাজারে কেনাকাটা বেড়েছে বলে নরেন্দ্র মোদী সরকার সাফল্য দাবি করেছিল। কিন্তু যুদ্ধের ধাক্কায় জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়ার ফলে জিনিসপত্রের দামও বেড়ে গিয়েছে। আমজনতার উপরে মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপছে। তা বলে ফের জিএসটি-তে পণ্য ও পরিষেবা করের কথা ভাবা হচ্ছে না।
কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক সূত্রের খবর, আগামী ৭ অক্টোবর দিল্লিতে জিএসটি পরিষদের বৈঠক ডাকা হলেও, সেখানে নতুন করে করের হার বদলের কোনও পরিকল্পনা নেই। মূলত প্রক্রিয়াগত সংস্কার করে কী ভাবে জিএসটি ব্যবস্থার আরও সরলীকরণ করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হবে। তার সঙ্গে এক বছর আগে যে জিএসটি-তে করের হার কমানো হয়েছিল, তার কতখানি রূপায়ণ হয়েছে, করের বোঝা কমার ফলে শিল্পসংস্থাগুলি পণ্যের দাম কমিয়েছে কি না, তার পর্যালোচনা হবে।
তিন মাস অন্তর কেন্দ্র ও রাজ্যের অর্থমন্ত্রীদের নিয়ে জিএসটি পরিষদের বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও, গত বছর সেপ্টেম্বরের এক বছরের বেশি সময় পরে আগামী ৭ অক্টোবর জিএসটি পরিষদের বৈঠক বসছে। অর্থ মন্ত্রক সূত্রের খবর, বৈঠকে মূলত ই-ইনভয়েস, কাঁচামালে মেটানো কর ফেরত সংক্রান্ত নিয়মে প্রক্রিয়াগত সংস্কার হবে। গত সেপ্টেম্বরে যে জিএসটি-র করের হার কমানো হয়েছিল, সাধারণ মানুষের কাছে তার সুবিধা পৌঁছে দিতে, তার রূপায়ণের ক্ষেত্রে কোনও রদবদলের প্রয়োজন রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
সম্প্রতি ইউপিআই-তে কিছু লেনদেনে শুল্ক বা মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট বসানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেই শুল্কের উপরে আবার ১৮ শতাংশ হারে জিএসটি চাপবে। সরকারি ভাবে এই বিষয়টি এখনও জিএসটি পরিষদের আলোচ্যসূচিতে না থাকলেও, ৭ অক্টোবরের জিএসটি পরিষদের বৈঠকে এই প্রসঙ্গ উঠতে পারে বলে অর্থ মন্ত্রকের কর্তারা মনে করছেন। ছোট শিল্প ও ব্যবসায়ীদের রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি কী ভাবে আরও সরল করা যায়, তা নিয়েও আলোচনা হবে।