বিচারকের মেরসেডেস বেনৎজ় নিয়ে রাস্তায় বেরিয়েছিল তাঁর নাবালক পুত্র। সেই গাড়ির ধাক্কায় কেরলমে মৃত্যু হল এক স্কুটারচালকের। পিটিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময়ে গাড়িটি চালাচ্ছিল বিচারকের নাবালক পুত্রই। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরেও ওই কিশোর কী ভাবে বিচারকের গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বেরোল, তা নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
পুলিশ সূত্রে ইন্ডিয়া টুডে জানাচ্ছে, শনিবার রাত ২টো থেকে ৩টের মধ্যে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। কেরলমের কোচির কাছে চেরানাল্লুরে পিছন থেকে একটি স্কুটারে ধাক্কা মারে মেরসেডেসটি। দুর্ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় স্কুটারচালকের। মেরসেডেসের ধাক্কায় দুমড়েমুচড়ে গিয়েছে তাঁর স্কুটারটি। ঘাতক ওই মেরসেডেসটি এক বিচারবিভাগীয় আধিকারিকের নামে রেজিস্ট্রেশন করা রয়েছে। পিটিআই জানাচ্ছে, তিনি অতিরিক্ত দায়রা বিচারক। তবে কোন আদালতের তা নির্দিষ্ট ভাবে জানানো হয়নি।
ঘটনায় ওই গাড়ির নাবালক চালককে ইতিমধ্যে ধরেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানায়, ঘটনার সময় ১৭ বছর বয়সি ওই কিশোর মত্ত অবস্থায় ছিল না বলেই অনুমান করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হওয়ার জন্য তার রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। বেপরোয়া ভাবে গাড়ি চালানো এবং অবহেলার কারণে স্কুটারচালককের মৃত্যুর অভিযোগে মামলা রুজু করেছে পুলিশ।
আরও পড়ুন:
দুর্ঘটনায় মৃতের এক আত্মীয় জানান, তিনি ওই এলাকায় একটি খাবারের দোকান চালাতেন। রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময়েই দুর্ঘটনা ঘটে। তাঁর দাবি, দুর্ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই ব্যক্তির। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, চার চাকার ওই গাড়িটি দ্রুত গতিতেই চলছিল। সেই কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। পিটিআই অনুযায়ী, স্থানীয় থানায় পৌঁছোনোর পর গাড়়িচালকের বিচারক-পিতা মৃতের পরিবারের সঙ্গে অসম্মানজনক সুরে কথা বলেন বলেও অভিযোগ। মৃতের পরিবারের প্রশ্ন, অপ্রাপ্তবয়স্ক পুত্রকে কেন গাড়ি চালাতে দিল বিচারকের পরিবার? মৃতের ওই আত্মীয় বলেন, “আমরা এই মামলার শেষ দেখে ছাড়ব।”