প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার যাচাই-প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল কিছু দিন আগেই। এ বার আধারযুক্ত স্ব-সমীক্ষা (সেলফ সার্ভে) ব্যবস্থার পরিধি বাড়াল রাজ্য সরকার। তাতে উপভোক্তা চাইলে নিজের স্মার্ট ফোনে সরকারি অ্যাপ ডাউনলোড করে সেই সমীক্ষা করে নিতে পারেন। কেউ তা করতে না চাইলে অবশ্য সরকারি আধিকারিকদের সমীক্ষার উপর নির্ভর করতে হবে। সরকারি তরফে জানানো হচ্ছে, প্রকৃত উপভোক্তারা দ্রুত এই কাজ শুরু করুন। কারণ, পরের সমীক্ষা শুরু হতে পারে আরও কয়েক বছর বাদে। চালু সমীক্ষা আপাতত চলবে ১৫ অগস্ট পর্যন্ত।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পরে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা এ রাজ্যে ফের চালুর সবুজ সংকেত সম্প্রতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। তাতে যোগ্য উপভোক্তাদের বাছাই করে তালিকাভুক্ত করার কাজও সমান্তরালে শুরু হয়েছে। এতে এ বার দু’টি পর্যায়ে সমীক্ষার সুযোগ রয়েছে। প্রথম— উপভোক্তা নিজেই তা করতে পারেন। দুই— সরকারি আধিকারিকেরাএলাকায় এলাকায় গিয়ে প্রথাগত ভাবে সমীক্ষা করে দেখবেন, আবাসের বাড়ি কার দরকার। চলতি বছরের ২৯ জুন পর্যন্ত ৩.৩৫ লক্ষের মধ্যে প্রায় ৯০ হাজার মানুষ স্ব-সমীক্ষা করেছিলেন এবং বাকি সমীক্ষা ছিল আধিকারিকদের মাধ্যমে। সরকারি সূত্র জানাচ্ছে, এখন স্ব-সমীক্ষার সেই সংখ্যাই বেড়ে হয়েছে প্রায় ২.৩৬ লক্ষ। এই পর্যায়ে আধার নির্ভর বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমে স্ব-যাচাইয়ের সুযোগ চালু হল।
জানানো হয়েছে, ‘আবাস প্লাস ২০২৪’ এবং ‘আধার ফেস আরডি’ নামে ওই দু’টি অ্যাপ প্রথমে উপভোক্তার নিজের মোবাইলে ডাউনলোড করতে হবে। আধার নম্বর এবং নিজের মুখের ছবি দিয়ে যাচাই হবে, সেই ব্যক্তির দেওয়া আধার তথ্য সঠিক কি না। অ্যাপের ‘সেলফ সার্ভে’ অংশে গিয়ে নিজের সমীক্ষা নিজেই করতে পারবেন উপভোক্তা। এখানে জব কার্ড নম্বর, মাসিক আয়, পরিবারের সদস্য-সহ বাকি সব তথ্য দিতে হবে তাঁকে। ফের এক বার অ্যাপের মাধ্যমে নিজের ছবি আপলোড করতে হবে এবং দিতে হবে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর।
আবাস প্রকল্পের শর্ত অনুযায়ী উপভোক্তা মানানসই হচ্ছেন কি না, তা বোঝা যাবে সমীক্ষা অংশে থাকা কিছু প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পরে। পুরনো বাড়ি এবং নিজের জমি থাকলে তার ছবি আপলোড করতে হবে সেই অ্যাপে। তার পরে নতুন বাড়ির কয়েকটি নকশা দেখতে পাবেন উপভোক্তা। তা বেছে নেওয়ার পরে উপভোক্তার কাজ শেষ। অ্যাপে জমা করা আবেদন চলে যাবে সরকারের তথ্যভান্ডারে। সরকারি সূত্র জানাচ্ছে, যাঁদের নিজের জমি নেই, তাঁদের ক্ষেত্রেও আবাসের বাড়ি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। সে ক্ষেত্রে ভূমিহীন ওই উপভোক্তা সরকারের থেকে জমি পাট্টায় পেতে পারেন। তা মান্যতা পাবে কেন্দ্রের কাছে।
আধিকারিকেরা জানাচ্ছেন, তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি। অসত্য তথ্য দেওয়া আইন বিরুদ্ধ বলে বিবেচিত হতে পারে। অবশ্য কেন্দ্রের বিধি অনুযায়ী, তথ্যের সবিস্তার যাচাই হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে।