সংসদ বসছে নিয়ম করে, আর প্রায় সঙ্গে সঙ্গে তা স্থগিতও হয়ে যাচ্ছে বার বার। আর এই হট্টগোলের সুযোগে মাঝের ওই দু’-পাঁচ মিনিটের মধ্যেই পরপর গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশ করিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠছে সরকারের বিরুদ্ধে। বিরোধীদের বক্তব্য, সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সংসদীয় প্রণালীকে হত্যা করে আলোচনা ছাড়াই বিলগুলি পাশ করানোর কৌশল নিয়েছে। পাল্টা শাসক শিবিরের বক্তব্য, সরকার আলোচনার পক্ষে। কিন্তু বিরোধীরাই আলোচনার বদলে হট্টগোল করে অধিবেশন ভেস্তে দিতে বেশি আগ্রহী।
গত কাল লোকসভায় কার্যত লোকদেখানো আলোচনা করেই পাশ করিয়ে দেওয়া হয়েছিল রাষ্ট্রীয় প্রতীকের অবমাননা সংক্রান্ত সংশোধনী বিল তথা বন্দেমাতরম বিলটি। বিলটি নিয়ে আলোচনা ও পাশ করাতে সময় লেগেছিল সাকুল্যে সাত মিনিট! আর বক্তা ছিলেন মাত্র দু’জন! তাঁরাও নিজেদের বক্তব্য পুরো শেষ করতে পারেননি। কার্যত আজও একই সূত্র মেনে লোকসভায় পাশ হয়ে গেল দেশবাসীর জন্ম-মৃত্যুর নথিভুক্তিকরণ আইন সংশোধনী বিল! এ ক্ষেত্রে আলোচনার সময়সীমা ছিল মাত্র তিন মিনিট! হট্টগোলের মধ্যেই তড়িঘড়ি বিলটি পাশ করিয়ে নেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই।
তবে এই প্রবণতা নতুন নয়। ঠিক এক বছর আগে এই বাদল অধিবেশনেই বিরোধীরা যখন ভোটার তালিকা সংশোধনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে পথে, তখন কোনও আলোচনা ছাড়াই লোকসভায় নতুন আয়কর আইনের সংশোধিত বিল পাশ করিয়ে নেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। একই সঙ্গে পাশ হয় কর সংক্রান্ত আইন সংশোধনী বিলটিও। ওই অধিবেশনে কেবল আয়কর আইনের দু’টি বিল নয়, আলোচনা ছাড়াই লোকসভায় পাশ হয়েছিল ক্রীড়া প্রশাসন ও ডোপিংবিরোধী বিল।
রাজ্যসভাতেও হট্টগোলের মধ্যেই আলোচনা ছাড়াই পাশ হয় বাণিজ্যিক জাহাজ বিল, গোয়ায় জনজাতি প্রতিনিধিত্ব বিল, মণিপুরের বাজেট ও জিএসটি বিল। গত বছরের মতোই আলোচনা ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশ করানোর ব্যাপারে সরকারের এই প্রবণতা ‘বিপজ্জনক’ বলে মনে করছেন বিরোধীরা।
কেন্দ্রীয় সংসদীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজুর অবশ্য বক্তব্য, ‘‘বিরোধীরা বিষয় উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে বিল নিয়ে আলোচনায় মত দিচ্ছেন। কিন্তু সংসদে আলোচনায় আগ্রহ না দেখিয়ে হট্টগোল চালিয়ে যাচ্ছেন। সরকারের উপরে জোর করে বিল পাশ করিয়ে নেওয়ার আঙুল তোলা হচ্ছে।’’