‘সময় এসে গিয়েছে সরকারকে সরানোর।’ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার পর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়াতেই এ কথা জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। অখিলেশ যাদবের পোস্ট, ‘এ তো নিছক পদত্যাগ নয়, যা ঘটল তা এক কথায় বিপ্লব।’ আর এক বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যন্তর মন্তরে আসার কথা ছিল রবিবার। পরিকল্পনা ছিল, তিনি, অখিলেশ এবং আপ নেতা অরবিন্দ কেজরীওয়াল একসঙ্গে যাবেন আন্দোলন মঞ্চে। কিন্তু ঘটনার জেরে আজই শেষ হল যন্তর মন্তরের সমাবেশ। তৃণমূল নেতৃত্ব জানান, আজ সন্ধ্যায় সিজেপি নেতা অভিজিৎ দীপকে ফোন করেছিলেন মমতাকে। প্রথম থেকে পাশে থাকার জন্য তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছেন তৃণমূল নেত্রীকে। মমতাও তাঁকে অভিনন্দন জানান।
বিরোধী শিবির বলছে, যুবশক্তির কাছে মোদী সরকার মাথা নত করল এবং গত ১২ বছরে এই প্রথম এমন ঘটল। এক বার চাপের কাছে নতি স্বীকার করলে, বাঁধ ভেঙে যায়। ফলে প্রধানের পদত্যাগের পর এ বার ভিন্ন প্রসঙ্গে, ভিন্ন ক্ষেত্রে আবারও একই ধরনের দাবি উঠতে পারে। সব মিলিয়ে এই প্রথম দুর্বল দেখাচ্ছে মোদী সরকারকে যা কংগ্রেস-সহ সম্মিলিত বিরোধী শক্তির কাছে বড় সুযোগ। রাজনৈতিক শিবিরের মতে, সেই সুবিধাকে ভোটবাক্সে কতটা প্রতিফলিত করতে পারবেন বিরোধীরা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। উত্তরপ্রদেশের নির্বাচন আসন্ন। দলের তরফে দূরত্ব বজায় রাখলেও পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ থেকে এসপি-র বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের ভিড় ছিল যন্তর মন্তরে। এর পরে অখিলেশ যাদব এবং অন্য বিরোধী নেতারা যে এই সুযোগকে কাজে লাগাতে চেষ্টার কসুর করবেন না তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে তাঁদের সক্রিয়তায়।
সোমবার থেকে সংসদের অধিবেশন শুরু হলে ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চ যে আজকের ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে প্রচারের চেষ্টা করবে, তা-ও স্পষ্ট। নিশানা করা হবে প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে। কিন্তু রাজনৈতিক শিবির মনে করছে, ছাত্রছাত্রী তথা যুবশক্তি যা এক মাসে করে দেখাল, তা গত ১২ বছরে সুযোগ পাওয়া সত্ত্বেও করে উঠতে পারেননি বিরোধীরা। সম্প্রতি বিজেপি-র কাছে বিপুল পরাজয় ঘটেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ২৪-এর লোকসভার পর একের পর এক রাজ্য হাতছাড়া করেছে কংগ্রেস। চলতি আন্দোলন নিয়ে একেবারে শেষ মুহূর্তে অর্থাৎ ২০ জুলাই রাতে (যে দিন ছাত্ররা সংসদ অভিযান করেন) প্রথম আসরে নামেন রাহুল গান্ধী। তার আগে পর্যন্ত কংগ্রেসের বক্তব্য ছিল, ছাত্রদের এই আন্দোলনে সংযুক্ত হলে, নিজেদের রাজনীতি লঘু হয়ে যেতে পারে।
আজ সকালে রাহুল ১০, জনপথে দেখা করেছেন আইসা-র জাতীয় সভাপতি তথা ধর্না মঞ্চে অনশনকারী নেহা বোরা এবং আরও কিছু যুব নেতানেত্রীর সঙ্গে। তাঁদের সঙ্গে নিয়ে সাংবাদিকদের রাহুল বলেন, “নরেন্দ্র মোদী অতীত। আর এই ছাত্রছাত্রীরা দেশের ভবিষ্যত। অতীত কখনও ভবিষ্যতের সঙ্গে পেরে ওঠে না।”
ককরোচ নেতারা আন্দোলন বন্ধের ডাক দেওয়ার পর সন্ধ্যায় আবার সাংবাদিকদের সামনে আসেন রাহুল। বলেন, “প্রতিটি ছাত্রছাত্রী এবং যুবশক্তিকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই, যাঁরা রাস্তা দখল করেছিলেন। দেশের সংবিধান এবং গণতন্ত্র এবং তার ভবিষ্যৎ রক্ষা করতে অটল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।” তাঁর কথায়, “আমাদের দাবির দু’টি এখনও বাকি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমা চাইতে হবে ছাত্রছাত্রীদের কাছে। দ্বিতীয়ত, ছাত্রদের বিরুদ্ধে হিংসার জন্য যাঁরা দায়ী তাঁদের শাস্তি দিতে হবে। সমাজের অন্যান্য শ্রেণি— কৃষক, শ্রমিক, গরিব, প্রত্যেককে এই সরকার গুঁড়িয়ে দিচ্ছে। এখন সময় এসেছে এই সরকারকে সরিয়ে দেওয়ার।” ভোটমুখী রাজ্য পঞ্জাবে এখন আপ সরকার। যন্তর মন্তরের ধর্নায় যথেষ্ট সক্রিয় ছিলেন আপ নেতা কেজরী। তিনি আজ বলেন, “গণতন্ত্রের জন্য বিরাট জয়।” অখিলেশের কথায়, “দেশের যুবশক্তির বিরাট জয়।”