স্বাধীন ভারতে এই প্রথম জনগণনার সময় জাত জানতে চাওয়া হবে। বিরোধীদের দাবি মেনে মোদী সরকার আগেই ঘোষণা করেছিল, এ বার জনগণনার সঙ্গেই দেশের জাতগণনা হবে। জনগণনার মূল পর্বে কী কী প্রশ্ন করা হবে, সেই ৪০টি প্রশ্নের তালিকা নিয়ে স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। সেখানে তফসিলি জাতি, জনজাতি বা এসসি, এসটি বাদে অন্যদের কার কী জাত, সেই প্রশ্ন রয়েছে। কংগ্রেস অবশ্য মোদী সরকার আদৌ ওবিসি-দের সংখ্যা নির্ধারণ করতে চাইছে কি না, সেই মনোবাঞ্ছা নিয়েপ্রশ্ন তুলেছে।
জনগণনায় নতুন প্রশ্ন হিসেবে বাবা ও মায়ের পৃথক তথ্য, কোভিড টিকাকরণ কোথায় হয়েছে, মোট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সংখ্যা, মোবাইল নম্বর, আধার নম্বর, ভোটার কার্ডের নম্বর, পাসপোর্ট নম্বর, ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকলে তার নম্বরও জানতে চাওয়া হবে।
শেষ বার ১৯৩১ সালে এ দেশে জাতগণনা হয়েছিল। ভারত জোড়ো যাত্রায় বেরিয়ে রাহুল গান্ধী দাবি তুলেছিলেন, এসসি, এসটি-র সঙ্গে এ দেশে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি বা ওবিসি-র সংখ্যা কত এবং তাঁদের আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি কী, তা-ও জানা দরকার। জনগণনায় বরাবর এসসি এবং এসটি-দের সংখ্যা নির্ধারণই হয়ে এসেছে। মোদী সরকার এই দাবিতে প্রথমে রাজি হয়নি। একে শহুরে নকশালদের দাবি বলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তকমা দিয়েছিলেন। বিজেপির মনোভাব ছিল, প্রধানমন্ত্রী মোদী নিজে ওবিসি। সেই সুবাদে বিজেপি ওবিসি ভোটের বড় অংশ নিজের ঝুলিতে টানছে। কিন্তু ওবিসি-দের আসল সংখ্যা প্রকাশ হলে সেই অনুযায়ী ওবিসি-দের সংরক্ষণ দেওয়ার দাবি উঠবে। অনেকেরই অনুমান, দেশে ওবিসি-দের সংখ্যা ৫০ শতাংশ বা তার বেশি। ওবিসি-দের জন্য সংরক্ষণ বাড়াতে হলে উচ্চবর্ণ ক্ষুব্ধ হবে। এই জাঁতাকলে পড়ে প্রথমে জাতগণনায় রাজি না হলেও পরে ওবিসি ভোট হারানোর ভয়ে মোদী সরকার জাতগণনার ঘোষণা করে।
এখন জনগণনার প্রথম পর্ব বা গৃহতালিকা তৈরির কাজ চলছে। আগামী বছর মূল জনগণনা হবে। সেই প্রশ্ন তালিকায় ‘এসসি/এসটি/জাত’ থাকছে। কংগ্রেসের প্রধান মুখপাত্র জয়রাম রমেশ মোদী সরকারের মনোবাঞ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাঁর বক্তব্য, কোন রাজ্যে কোন জাত ওবিসি তালিকাভুক্ত, তার আগাম তালিকা নিয়ে জাতগণনা হওয়া উচিত। সে ক্ষেত্রে শুধু নির্দিষ্ট জাতের নামটি চিহ্নিত করলে হয়ে যায়। এইভাবে বিহার, তেলঙ্গানায় জাতগণনা হয়েছিল। দুর্ভাগ্যজনক ভাবে এ ক্ষেত্রে তা হচ্ছে না।
১৯৩১ সালের জাতগণনায় দেশে ৪,১৪৭টি জাত পাওয়া গিয়েছিল। ইউপিএ সরকারের আমলে ২০১১ সালে আর্থ-সামাজিক জাতগণনায় ৪৬ লক্ষ রকমের জাতের নাম উঠে এসেছিল। সেই সমীক্ষা ত্রুটিপূর্ণ ছিল, তা প্রকাশিত হয়নি।
এ বার জনগণনায় নতুন প্রশ্ন হিসেবে বাবা ও মায়ের পৃথক ভাবে তথ্য, স্বামী বা স্ত্রী-র নাম, মোট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সংখ্যা, মোবাইল নম্বর, আধার নম্বর, ভোটার কার্ডের নম্বর, পাসপোর্ট নম্বর, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ডিজিটাল সাক্ষরতার মতো প্রশ্ন থাকবে। এর মধ্যে বেশ কিছু প্রশ্ন ২০১৯-এর জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনপিআর-এর মহড়ার প্রশ্নের তালিকায় ছিল। তখন ঠিক ছিল, ২০২১-এর নির্ধারিত জনগণনার সঙ্গে এনপিআর তৈরি হবে। কিন্তু দেশ জুড়ে বিরোধিতার জন্য এনপিআর হিমঘরে চলে যায়। কোভিডের কারণ দেখিয়ে মোদী সরকার ২০২১-এর জনগণনা করেনি। যা ২০২৭-এ হবে।