ধর্ম ও যুদ্ধ। রামমন্দিরে এখন ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর ছায়া।
নিটের প্রশ্ন ফাঁসের পুনরাবৃত্তি রুখতে বায়ুসেনার সাহায্য নিয়েছিল নরেন্দ্র মোদী সরকার। এ বার রামমন্দিরে অনুদান চুরির মতো ঘটনা ঠেকাতে প্রাক্তন বায়ুসেনা কর্তা এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্রকে রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের প্রথম সিইও হিসেবে নিয়োগ করা হল। ‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালীন ওয়েস্টার্ন কমান্ডের দায়িত্বে ছিলেন জিতেন্দ্র। বিরোধীদের কটাক্ষ, উত্তরপ্রদেশ ভোটের আগে ধর্মের সঙ্গে যুদ্ধের স্মৃতিকে উস্কে দিয়ে এ হল শাসক শিবিরের রামমন্দির সংক্রান্ত ক্ষত মেরামতির চেষ্টা। উত্তরপ্রদেশের প্রধান বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টির মতে, যেখানে উত্তরপ্রদেশের কৃষকেরা আখের দাম পাচ্ছেন না, একের পর এক ভর্তির পরীক্ষা বাতিল হয়ে যাচ্ছে, মূল্যবৃদ্ধির সূচক যখন ঊর্ধ্বমুখী তখন ধর্ম ও জাতীয়তাবাদের এই মিশ্রণ রাজ্যবাসী আদৌ ভাল ভাবে নেবেন না।
গত জুন মাসের গোড়ায় রামমন্দিরের অনুদান চুরির বিষয়টি প্রথম সামনে আসে। যাতে নাম জড়িয়ে যায় রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক তথা বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা চম্পত রাইয়ের ঘনিষ্ঠ কিছু ব্যক্তির। এর পরেই মন্দিরের দায়িত্ব আগামী দিনে কার হাতে থাকবে তা নিয়ে রেষারেষি শুরু হয় বিজেপি ও সঙ্ঘ পরিবারের মধ্যে। উত্তরপ্রদেশে নির্বাচনের আগে রামমন্দিরে চুরির ঘটনায় সরকারের যে মুখ পুড়েছে তা ঘরোয়া ভাবে স্বীকার করে নেন বিজেপি নেতারা। তাঁদের বক্তব্য, মন্দির কমিটির শীর্ষ পদে কোনও আমলা থাকলে সম্ভবত এ ধরনের অনিয়ম এড়ানো সম্ভব হত। যে কারণে মন্দিরের সামগ্রিক পরিচালন ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার জন্য এক জন সিইও নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিরোধীদের মতে, আজকের ওই নিয়োগের ফলে মন্দিরের মূল নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা বকলমে প্রধানমন্ত্রীর দফতরের হাতে চলে গেল ঠিকই। তবে অন্যান্য যে পরিবর্তন হয়েছে তাতে অন্য পদগুলিতে নিজেদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিকেই বসাতে সক্ষম হয়েছে সঙ্ঘ পরিবার।
সিইও নিয়োগের দায়িত্বে থাকা তিন সদস্যের কমিটি গত কাল তাদের রিপোর্ট জমা দিয়েছিল। আজ মন্দির কমিটির অস্থায়ী সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণ মোহন জানান, তিনি তাঁর দায়িত্ব ছেড়ে দিচ্ছেন। পরিবর্তে স্থায়ী ভাবে ওই পদের দায়িত্ব নেবেন স্বামী গোবিন্দ দেব গিরি। তিনি কোষাধ্যক্ষের দায়িত্বে ছিলেন। নতুন কোষাধ্যক্ষ হচ্ছেন মহেশ বাগছন্দকা। দিল্লির ওই ব্যবসায়ী বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা অশোক সিঙ্ঘলের আত্মীয়। এ ছাড়া অছি পরিষদের সদস্য হিসেবে যোগ দিয়েছেন গেরুয়া শিবির ঘনিষ্ঠ অযোধ্যা নিবাসী মদনমোহন পাণ্ডে ও শিকোকাবাদের নির্মলা যাদব।
মন্দিরের সিইও হিসেবে ৫,৫৮৫টি আবেদনের মধ্যে বেছে নেওয়া হয়েছে বায়ুসেনার প্রাক্তন কর্তা এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্রকে। তিনি ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময়ে বায়ুসেনার ওয়েস্টার্ন কমান্ডের দায়িত্বে ছিলেন। ১৯৮৬ সালে বায়ুসেনায় যোগ দেওয়া ওই অফিসার কার্গিল যুদ্ধে মিরাজ ২০০০ যুদ্ধবিমান দিয়ে শত্রুদের বাঙ্কার গুঁড়িয়ে দেওয়ার পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। এই নিয়োগ প্রসঙ্গে কংগ্রেসের পরিষদীয় দলনেতা আরাধনা মিশ্র বলেন, ‘‘কোন মাপকাঠিতে ওই ব্যক্তিকে নিয়োগ করা হয়েছে, তা নিয়োগকর্তারাই বলতে পারবেন। কিন্তু মূল বিষয়টি হল রাম মন্দিরের চুরি। যার তদন্তে নেমে বিশেষ তদন্তকারী দল একাধিক অনিয়মের সন্ধান পেয়েছে। এটি কেবল দুর্নীতি নয়, এর সঙ্গে দেশবাসীর ধর্মবিশ্বাসও জড়িত রয়েছে। কংগ্রেস তাই জানতে চায় অনুদান ও প্রণামী যারা আত্মসাৎ করেছে, সেই অভিযুক্তদের কী শাস্তি দেওয়া হয়েছে।’’