দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সরাতে ফের ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনতে চলেছে বিরোধী শিবির। কংগ্রেস সূত্র উল্লেখ করে বৃহস্পতিবার ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, সংসদের দুই শিবিরেই নোটিস জারি করা হবে। ইতিমধ্যে সেই তোড়জোড়ও শুরু হয়ে গিয়েছে। আইনি পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে অপসারণের প্রস্তাব আনা হয়েছিল লোকসভা এবং রাজ্যসভায়। কিন্তু বিরোধী শিবিরের জারি করা নোটিস খারিজ করে দেওয়া হয়। বুধবার ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর জ্ঞানেশের ভূমিকা এবং নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তাঁকে কেন্দ্র করে অন্তর্কলহের বিষয়টি আলোচনায় উঠে এসেছে। দাবি, গত ১০ মাসে জ্ঞানেশের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অন্তত ১৪ বার বাকি দুই নির্বাচন কমিশনার বিবেক জোশী এবং সুখবীর সিংহ সঁধু আপত্তি জানিয়েছিলেন। কিন্তু আপত্তি না-মেনে, তাঁদের অন্ধকারে রেখে একক ভাবে জ্ঞানেশ একের পর এক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই রিপোর্টের ভিত্তিতেই বিরোধী শিবির কোমর বেঁধেছে। জ্ঞানেশকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে সরিয়ে তাঁকে আইনের আওতায় আনার উদ্দেশ্যেই ফের সংসদে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনা হচ্ছে বলে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। কংগ্রেসের অভ্যন্তরের একটি সূত্র জানিয়েছে, আইনের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে জ্ঞানেশের অপসারণের প্রস্তাবের খসড়া প্রস্তুত করা হচ্ছে। একক ভাবে বিরোধী দলগুলি সংসদের দুই কক্ষে শীঘ্রই নোটিস জারি করবে।
আরও পড়ুন:
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হিসেবে জ্ঞানেশের নিয়োগ নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। ২০২৩ সালে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার আইন করে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের নিয়মে বদল করে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলনেতা এবং সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ করতেন। নতুন আইনে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির পরিবর্তে প্রধানমন্ত্রী মনোনীত কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার এক সদস্যকে সেই ক্ষমতা দেওয়া হয়। জ্ঞানেশদের নিয়োগের সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ওই নিয়োগ প্যানেলে ছিলেন। তা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। পাশাপাশি, পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) আবহে জ্ঞানেশের বিভিন্ন আচরণের বিরুদ্ধে সরব হয় বিরোধীরা। তৃণমূলও জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবের জন্য উদ্যোগী হয়েছিল। জ্ঞানেশকে অপসারণের দাবিতে বিরোধী সাংসদেরা প্রথমে যে নোটিস দিয়েছিলেন, তাতে তাঁর বিরুদ্ধে নানা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছিল। তার মধ্যে অন্যতম, তাঁর নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়ম। ছিল লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুলের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ। তা ছাড়া, নিয়োগ প্যানেলের বৈঠকে জ্ঞানেশের নামে আপত্তি জানিয়ে রাহুল যে ‘ডিসেন্ট নোট’ দিয়েছিলেন, তারও উল্লেখ ছিল নোটিসে। আনা হয়েছিল ভোট কারচুপিতে মদত দেওয়ার অভিযোগ। এসআইআর নিয়েও আপত্তি তোলা হয়েছিল।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার একটি সাংবিধানিক পদ। সাংবিধানিক পদে কেউ থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনতে গেলে অন্তত ১০০ জন সাংসদের স্বাক্ষর প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে বিরোধী শিবির নতুন করে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনলে তা সংসদে গৃহীত হয় কি না, সেটাই দেখার।