চলতি বাদল অধিবেশনের শেষ সপ্তাহ শুরু হচ্ছে আগামিকাল। প্রথম দিনই লোকসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দু’টি বিল পেশ করার কথা রয়েছে বিজ্ঞাপিত কর্মসূচিতে। একটি কেরল রাজ্যের নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত, অন্যটি জাতীয় সমবায় উন্নয়ন কর্পোরেশনের সংশোধনী বিল। বিরোধী শিবিরের বক্তব্য, শাহ যদি লোকসভায় আসেন, তবে ছাত্রদের উপরে নির্যাতনের কৈফিয়ৎ চেয়ে বিবৃতি দাবি করা হবে। তা না করে অন্য বিল নিয়ে বলতে উঠলে, হট্টগোল করে অধিবেশন ভন্ডুল করার চেষ্টা হবে। আর তিনি যদি আদৌ না এসে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাইকে পাঠান, তা হলেও কংগ্রেস, এসপি, তৃণমূল-সহ বিরোধীরা স্লোগান তুলবেন, ‘অমিত শাহ ভয় পেয়ে অধিবেশনে আসছেন না’।
আজ রাহুল গান্ধী বলেন, ‘‘তেরো দিন কেটে গেল, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গলা থেকে একটি শব্দও বার হল না! ক্ষমা চাওয়া দূরস্থান, মোদী ক্ষমা চাওয়ার বদলে ক্ষমা বিলি করছেন!’’ তিনি বলেন, ‘‘অমিত শাহজি, ভাববেন না আমরা আমাদের জবাব চাওয়ার দাবি থেকে পিছু হঠব। রাজধানীর বুকে ছাত্রদের উপরে লাঠিচার্জ হয়েছে, ছররা গুলি চালানো হয়েছে। আপনি একটি শব্দও বলেননি। আজ না হোক কাল, আপনাকে এই অপরাধের জন্য জবাব দিতেই হবে। দেশের আলো হল ছাত্ররা, আমি সর্বশক্তি দিয়ে তাদের পাশে রয়েছি।’’
বিরোধী কৌশল, আগামিকালও সকাল থেকে সংসদের দুই কক্ষে অমিত শাহের জবাব চেয়ে হল্লা করা হবে। সেই সঙ্গে এসপি-র নেতৃত্বে রামমন্দিরের দানের অর্থ চুরি নিয়ে যেমন ধারাবাহিক ধর্না ও স্লোগান চলছে, তা চলবে। আজ তৃণমূলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, ‘‘ক্রিকেট খেলতে হলে মাঠে নামতে হয়। প্যাভিলিয়নে বসে লাভ নেই। শাহ প্রতি দিন সংসদে এসে নিজের ঘরে বসে থাকছেন। এক মিনিটের পথ হেঁটে অধিবেশন কক্ষে আসতে পারছেন না! এর থেকেই বোঝা যায়, তাঁর সাহস নেই। কাল যদি আসেন, সব স্থগিত রেখে ছাত্রপীড়ন নিয়ে বিবৃতি চাইব আমরা।’’ চলতি অধিবেশনে তো প্রশ্নই নেই, এই মাসে কোনও বিশেষ অধিবেশন ডেকে আসন পুর্নবিন্যাস সংক্রান্ত বিলটিও যে কেন্দ্র পাশ করাতে পারবে না সে নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ডেরেক। বলছেন, ‘‘ওরা ফাঁকা আওয়াজ করছে। ডিএমকে ওদের সঙ্গে নেই। এ ব্যাপারে ডিএমকে নেতৃত্বের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ আছে। ওরা বিজেপি সরকারকে এই বিলে সমর্থন করবে না।’’
কংগ্রেসের প্রধান মুখপাত্র জয়রাম রমেশ আজ তাঁর এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে বলেছেন, ‘‘২০২৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে গ্যালারি থেকে দু’জন স্লোগান দিতে দিতে হলুদ রংয়ের গ্যাস ছড়াতে শুরু করেন। নিরাপত্তার এই ভয়ঙ্কর গাফিলতির পরে গোটা বিরোধী দল বার বার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে বিবৃতি দাবি করে। তা দেওয়া হয়নি। তিনি নীরব রইলেন, যেমনটা গত মাসে ছাত্রদের উপর দিল্লি পুলিশের নিষ্ঠুর হামলার পরেও রয়েছেন। ২০২৩ এর ১৪ ডিসেম্বর থেকে ২০২৩-এর ২১ ডিসেম্বরের মধ্যে অভূতপূর্ব ভাবে ১৪৬ জন সাংসদকে সাসপেন্ড করা হল। আর তার পর নামমাত্র বিরোধীদের উপস্থিতিতে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশ করিয়েছে বিজেপি সরকার।’’