পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিকে টেনে আজ কার্যকারণ সূত্রে কংগ্রেসকে নিশানা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। হরিয়ানার জীন্দে দেশের প্রথম হাইড্রোজেন চালিত ট্রেনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তৃতায় তিনি দাবি করেছেন যে, হরমুজ় প্রণালী যদি এ ভাবে ২০১৪ সালের আগে অগ্নিগর্ভ হত, তা হলে দেশের রেল ব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়ত।
এই হাইড্রোজেন ট্রেন এর আগে সফল ভাবে চালিয়েছে জার্মানি, চিন, জাপান ও আমেরিকা। ভারতের ট্রেনটি প্রায় ২৬০০ যাত্রী বহন করতে পারবে। মোদী বলেন, ‘‘গত কয়েক মাস ধরে হরমুজ় প্রণালী সংলগ্ন ইরান ও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধ চলছে। ভারতে পেট্রল-ডিজ়েল, এলপিজি, কৃষকদের জন্য সার ওই সামুদ্রিক রাস্তা দিয়ে আসে। গত তিন-চার মাসে ওই পথ কার্যত যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে যা সঙ্কটে পরিপূর্ণ।’’ এর পরেই পূর্বতন কংগ্রেস সরকারের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, ‘‘২০১৪ সালের আগে যদি এমন অবস্থা হত, তা হলে আজ রেল থমকে যেত। কারণ, ২০১৪ সালের আগে আমাদের দেশের অধিকাংশ ট্রেন শুধু ডিজ়েলেই চলত। ডিজ়েল আসা বন্ধ হয়ে গেলে, কী ভাবে আর রেল যোগাযোগ অব্যাহত থাকত? গোটা দেশেই বড় সঙ্কট তৈরি হত। কিন্তু এটা ২০১৪ নয়, এটা মোদী সরকার। যে অনেক আগে থেকে ভাবে আর সমস্যার সমাধানও করে ফেলে।”
এই প্রসঙ্গেই গোটা দেশের রেল নেটওয়ার্কের বিদ্যুদয়ন নিয়ে ফের কংগ্রেসের সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘‘ভারতীয় রেলের বৈদ্যুতিকরণ হয়েছিল ১৯২৫ সালে, অর্থাৎ প্রায় ১০০বছরেরও বেশি আগে। তখন থেকে ২০১৪ পর্যন্ত প্রায় ৯০ বছরে গোটা দেশের রেল নেটওয়ার্কের ৩০ শতাংশ, অর্থাৎ এক-তৃতীয়াংশেরও কম অংশের রেল নেটওয়ার্কের বৈদ্যুতিকরণ করা হয়। তখন ৭০ শতাংশ ট্রেন ডিজ়েলে চলত। ৯০ বছরে যে গতিতে কাজ হয়েছে, সেই গতিতে দেশের গোটা নেটওয়ার্কের বৈদ্যুতিকরণ হতে ৩০০ বছর লেগে যেত অর্থাৎ আরও ২০০ বছর। ভারতীয় রেলের বিদ্যুদয়ন হয় তো সম্ভব হয়ে উঠত না। ডিজ়েল দিয়েই রেল চলত।” তাঁর দাবি, ‘‘গত ১২ বছরে ৯৯ শতাংশ রেল নেটওয়ার্কের বৈদ্যুতিকরণ হয়েছে।’’