বিজেপির পূর্বসূরি ভারতীয় জনসঙ্ঘের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের জন্মদিনে শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সমাজমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘‘জাতীয় সেবার প্রকৃত সাধক ছিলেন পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়জি। তাঁর জন্মবার্ষিকীতে তাঁকে বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই। তিনি যে জাতি গঠনের স্বপ্ন দেখতেন, তাঁর ভিত্তি ছিল, সমাজের শেষপ্রান্তে থাকা মানুষটিরও উন্নয়ন। তিনি অন্ত্যোদয়ের দর্শন উপহার দিয়েছিলেন। এই দর্শন আজও জনকল্যাণের ক্ষেত্রে গভীর অনুপ্রেরণা জোগায়।’’ তবে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বিতর্ক নিয়ে একটি শব্দও তাঁর বক্তৃতায় আসেনি।
দীনদয়ালের স্মৃতিতে প্রতি বছর ২৫শে সেপ্টেম্বর দিনটিকে ভারত সরকার অন্ত্যোদয় দিবস হিসেবে ঘোষণা ও পালন করে। উদ্দেশ্য— সমাজের পিছিয়ে পড়া ব্যক্তির উন্নয়ন বা উদয়। গত ১৭ সেপ্টেম্বর মোদীর ৭৬তম জন্মদিনে তাঁর জন্মস্থান গুজরাতের বডনগর এবং নির্বাচনীকেন্দ্র বারাণসীর মধ্যে শুরু হয়েছে দ্বিমুখী ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ (আদতে মোটর সাইকেল র্যালি)। শুক্রবার সেই ‘সেবা যাত্রা’য় অংশ নেওয়া বিজেপির যুবকর্মীদের সামনে ভিডিয়ো বক্তৃতা করলেন প্রধানমন্ত্রী। ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির কথা না ভেবে সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা ভাবার বার্তা দিলেন। গত ১২ বছরের তাঁর সরকারের জমানায় বৈষম্য কমেছে বলে দাবি করলেন। বাইক যাত্রায় বেরোনো ‘সেবা যাত্রীদের’ গেরুয়া পাগড়ির বদলে হেলমেট পরে গাড়ি চালাতে বললেন। এমনকি, গুজরাতগামী টিমকে গির অরণ্যে গিয়ে সিংহ দর্শনের পরামর্শও দিলেন। কিন্তু নীরব রইলেন জ্ঞানেশ বিতর্ক সম্পর্কে।
আরও পড়ুন:
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশের ‘স্বেচ্ছাচারিতা’র বিরুদ্ধে দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সঁধু এবং বিবেক জোশীর তোলা অভিযোগ নিয়ে বুধবার ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ সংবাদপত্রে প্রকাশিত অন্তর্তদন্তমূলক প্রতিবেদন প্রকাশের পরেই দেশ জুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিরোধী দলগুলি এমনকি, নতুন প্রজন্মের সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি জ্ঞানেশের ইস্তফার দাবিতে সরব হয়েছে। কিন্তু মোদী এখনও সরাসরি ভোট চুরি এবং এসআইআর-অনিয়মের বিষয়ে রাহুল গাঁধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অরবিন্দ কেজরীওয়ালদের অভিযোগের জবাব দেননি। জল্পনা ছিল শুক্রবার দীনদয়ালের জন্মদিবসে প্রত্যাঘাতের রাজনীতির বার্তা দেবেন তিনি। সরাসরি জ্ঞানেশ-প্রসঙ্গ না টানলেও বিজেপি যুব মোর্চার নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘‘চ্যালেঞ্জ যতই বড় হোক, তার মোকাবিলায় ছোট ছোট প্রয়াস জরুরি। বড় লক্ষ্যে পৌঁছোতে হলে ধারাবাহিক ভাবে ছোট ছোট পদক্ষেপ করে যেতে হবে।’’