আবার রাতে ভিডিয়োবার্তা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। শুক্রবার রাত ১১টা নাগাদ প্রধানমন্ত্রীর সমাজমাধ্যম থেকে একটি ভিডিয়ো আপলোড হয়। এ বারেও তাঁর বার্তা ছিল যুবসমাজের উদ্দেশে। দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে তাঁকে অশ্লীল ভাষায় আক্রমণ করা হয়েছে দাবি করেও ক্ষমার বার্তা দিলেন মোদী। দিলেন নৈতিকতার পাঠ। তিনি বললেন, ‘‘ভুল থেকে শিখুন। এগিয়ে চলুন।’’
তিরিশ সেকেন্ডের বার্তাতে মোদী বলেন, ‘‘যন্তর মন্তরে যা হয়েছে তা দেশ তথা বিশ্বের মানুষ দেখেছেন। কিছু ‘দুষ্টু’ ছেলেমেয়ে অশ্রাব্য গালিগালাজ করেছে। সমাজের পক্ষে অশোভনীয় এমন শব্দ প্রয়োগ করা হয়েছে।’’ তিনি বলেন, ‘‘আমাকে তো গালমন্দ করা হয়েইছে, আমার মাকেও কটূক্তি করা হয়েছে।’’ এর পরেই তাঁর বার্তা, ছোটবেলায় ভুল হয়েই থাকে। তবে এই সময় ভুল শোধরানোরও। সংস্কৃতির অবক্ষয় হচ্ছে জানিয়ে মোদীর আশঙ্কা, ‘‘আমাদের মেয়েরা কী করে এমন ভাষা বলতে পারে!’’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘কিন্তু সময় আছে। এই ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের বুকে টেনে নিয়ে সঠিক রাস্তা দেখানোর। এটাই আমাদের কর্তব্য।’’ মোদী জানান, তিনি ক্ষমা করতে চান। তাঁর বক্তব্য, ওঁদের আদালতে নিয়ে এসে বা শাস্তি দিয়ে পরিস্থিতির বদল হবে না। সমাজের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা, তাঁর মতোই ক্ষমার পথে হাঁটার। শুক্রবার মোদী বলেন, ‘‘দাঁতের নীচে কখনও কখনও জিভ চলে আসে। রক্তও পড়ে কিন্তু আমরা দাঁত ভেঙে ফেলি না। কারণ দাঁত ও জিভ-দুটোই আমাদের।’’ তার পরেই বলেন, ‘‘এই বাচ্চারাও তো আমাদেরই।’’
যুবসমাজের প্রতি মোদীর আহ্বান, ‘‘আসুন। দেশের জন্য সবাই একসঙ্গে এগোই। কিছু নতুন শিখি।’’ তিনি বলেন, ‘‘দেশ এগোচ্ছে, এগোবে, আমার স্বপ্ন আপনাদেরও অগ্রগতি ।’’ আরও বলেন, ‘‘আমি আপনাদের জন্যই জিতেছি। আপনাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য ভাবি। আমরা একসঙ্গে এগোই।’’
আরও পড়ুন:
অন্যান্য বারের মতো এ বারেও যুবসমাজের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সম্বোধন ছিল, ‘ফ্রেন্ডস্’, ‘দোস্ত’। প্রসঙ্গত, ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র বিক্ষোভের সময়ে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে সমাজমাধ্যমে আপত্তিকর পোস্ট করার অভিযোগ রয়েছে। যার জেরে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াট্সঅ্যাপের নিয়ন্ত্রক সংস্থা মেটা-র ভারতীয় শাখা (মেটা ইন্ডিয়া)-র প্রধানের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে তেলঙ্গানার পুলিশ। হায়দরাবাদের সাইবার অপরাধদমন থানার পুলিশ এই সংক্রান্ত মামলা করেছে। জানা গিয়েছে, বেশ কয়েকজন নেটাগরিকের বিরুদ্ধেও মামলা রুজু হয়েছে।
সম্প্রতি, ইনস্টাগ্রাম-সহ সমাজমাধ্যমের বিভিন্ন প্লাটফর্মে মন্ত্রীদের সক্রিয় হওয়ার বার্তা দিয়েছিলেন মোদী। যুব সমাজকে কাছে টানতে রিল বানানোর পরামর্শও দিয়েছিলেন। নিজেও সে পথই অনুসরণ করে চলেছেন। অন্য দিকে, সিজেপির বিক্ষোভের সময়ে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের বার্তা ছিল, যুব সমাজকে বুঝতে হলে নির্দেশ না দিয়ে আলোচনার পথে হাঁটার। আলোচনা- দাবি মেনে নেওয়ার পরে শুক্রবারের ‘ক্ষমাবার্তা’-তেও যেন সেই ‘নরম’ মনোভাবই বজায় থাকল।