আইপ্যাক ছেড়েছেন। গড়েছেন নিজের রাজনৈতিক দল। তবে রাজনৈতিক পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করেন এখনও। নিজের পেশাগত পরিচয় হিসেবে এখনও এটিই ব্যবহার করেন জন সুরাজ পার্টির নেতা প্রশান্ত কিশোর। কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি রয়েছে ভোটকুশলী পিকের পরিবারের। তাঁর একারই রয়েছে ৯৬ কোটির সম্পত্তি। স্ত্রী জাহ্নবী দাসের সম্পত্তি ইতিমধ্যে ১০০ কোটি ছাপিয়ে গিয়েছে।
আগামী ৩০ জুলাই বিহারের বাঁকিপুর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন। ওই আসনে প্রার্থী হয়েছেন পিকে। সোমবার নিজের মনোনয়নপত্রও জমা দিয়েছেন তিনি। নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, পিকের ৯৬ কোটি ৬ লক্ষ টাকার সম্পত্তি রয়েছে। তাঁর স্ত্রী জাহ্নবী পেশায় চিকিৎসক। দিল্লির এক হাসপাতালে সিনিয়র পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করেন। জাহ্নবীরও স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে ১০১ কোটি ৯৩ লক্ষ টাকার সম্পত্তি রয়েছে।
পেশাগত দিক থেকে উভয়েই পরামর্শদাতা। এক জন রাজনৈতিক পরামর্শদাতা। অপর জন চিকিৎসক হিসাবে পরামর্শদাতা। হলফনামা অনুযায়ী, পিকের মোট ২২ কোটি ১৯ লক্ষ টাকার অস্থাবর সম্পত্তি আছে। তাঁর চিকিৎসক-স্ত্রী ৮৯ কোটি ৫১ লক্ষ টাকার অস্থাবর সম্পত্তির মালিক। কোটি কোটি টাকার মালিক হলেও পিকে বা তাঁর স্ত্রীর নামে কোনও গাড়ি নেই। ব্যাঙ্কে পিকের পাঁচটি ফিক্সড ডিপোজ়িট রয়েছে। স্ত্রীর রয়েছে চারটি। শেয়ারবাজারে ৬৩ লক্ষ টাকার লগ্নি রয়েছে ভোটকুশলীর। জাহ্নবীর মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ রয়েছে ১ কোটি টাকারও বেশি। জন সুরাজ পার্টির নেতার স্ত্রীর ৬৪ লক্ষ টাকার সোনার অলঙ্কারও আছে।
বিহারের রোহতসে তিন একরেরও বেশি জমি রয়েছে পিকের। সেখানে একটি চালকল ছিল, যা বর্তমানে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ২০১৪ সালে ২৫ লক্ষ টাকায় তিনি সেটি কিনেছিলেন। এখন জমিটির বাজারদর ৯ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা। এ ছাড়া পটনার পাটলিপুত্র কলোনি, নয়াদিল্লির বসন্ত বিহার এবং গাজিয়াবাদে তাঁর বাড়ি রয়েছে। আছে শরিকি সম্পত্তিও। হলফনামা অনুযায়ী, পিকের মোট ৭৩ কোটি ৮৭ লক্ষ টাকার স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। তাঁর স্ত্রী বর্তমানে ১২ কোটি ৪২ লক্ষ টাকার স্থাবর সম্পত্তির মালিক।
আরও পড়ুন:
গত পাঁচ বছরে দম্পতি কত আয় করেছেন, সেই হিসেবও রয়েছে হলফনামায়। পিকে জানিয়েছেন, ২০২০-২১ অর্থবর্ষে তাঁর আয় ছিল ৮ লক্ষ ৬৬ হাজার টাকা। ২০২১-২২ সালে বেড়ে হয় ৬০ লক্ষেরও বেশি। ২০২২-২৩ সালে ৪৪ লক্ষ ৪৯ হাজার টাকা আয় করেন পিকে। পরবর্তী দু’বছরে তাঁর বার্ষিক আয় চমকপ্রদ। ২০২৩-২৪ সালে পিকে আয় করেন ৮ কোটি ৮৯ লক্ষ টাকা। তার পরের অর্থবর্ষে তাঁর আয় ছিল ৫৮ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা (ওই বছরে জন সুরাজ পার্টিকে ১০ কোটি টাকা দান করেন পিকে। অবশিষ্টাংশ নিজের বার্ষিক আয় বলে হলফনামায় জানিয়েছেন তিনি)।
পিকের চিকিৎসক স্ত্রীরও গত কয়েক বছরে আয় ধারাবাহিক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২০-২১ সালে জাহ্নবীর বার্ষিক আয় ছিল ৬ লক্ষ টাকার কিছু বেশি। পরবর্তী তিন বছরে তাঁর আয় ছিল যথাক্রমে ১৮ লক্ষ, ৩৪ লক্ষ এবং ৪১ লক্ষ টাকা। ২০২৪-২৫ সালে তা সামান্য কমে হয় ৪০ লক্ষ টাকা।
হলফনামায় পিকে জানিয়েছেন, তাঁর আয়ের মূল উৎস হল তাঁর পেশা এবং ব্যবসা। এ ছাড়া ব্যাঙ্কে গচ্ছিত টাকার সুদ থেকেও তাঁর আয় হয়। স্ত্রীর আয়ের মূল উৎস চিকিৎসা সংক্রান্ত পরামর্শ থেকে। এ ছাড়া ব্যাঙ্কে জমানো টাকা এবং ভাড়ার টাকা থেকেও আয় হয় স্ত্রীর।