প্রথমে তালকাটোরা স্টেডিয়াম। হল না। তার পরে কনস্টিটিউশন ক্লাব। হল না। এর পরে অশোক হোটেল, রামলীলা ময়দান এবং বি আর অম্বেডকর হল— সেগুলিতেও ঝুলল নিষেধজ্ঞার বোর্ড। কংগ্রেস-সহ বিরোধী মঞ্চ ‘ইন্ডিয়া’র শরিকদের বক্তব্য, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ‘জনতা ইমপিচমেন্ট’ কর্মসূচি (ছদ্ম সংসদের আয়োজন) করার চেষ্টাতেও এ ভাবেই একের পর এক দেওয়াল তুলছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। শেষ পর্যন্ত স্থির হয়েছে, ১০ রাজাজি মার্গে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গের ‘টাইপ এইট’ বাংলোয় আগামী ৩০ অক্টোবর হবে ওই কর্মসূচি। আর তার পরেই ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে অন্তত ১ লক্ষ লোকের জমায়েত করতে ঝাঁপিয়েছে কংগ্রেস, এসপি-সহ বিরোধী দলগুলি।
আজ লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধী তাঁর পোস্টে ‘চলো দিল্লির’ ডাক দিয়েছেন। লিখেছেন, ‘গোটা দেশের লাখো দেশভক্ত ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও জনমোর্চা আর মহাসমাবেশের’ লক্ষ্যে দিল্লি পৌঁছচ্ছেন। এটি কোনও দল, জাতি, ধর্ম, ভাষা বা এলাকার নয়, বরং সমস্ত ভারতীয় আন্দোলন। শিবের বরযাত্রীর মতো কোনও ভেদাভেদ ছাড়াই সবাইকে স্বাগত। নিজের ভোটের অধিকার তথা গণতন্ত্রের রক্ষার দায়িত্ব পালন করুন। ১ নভেম্বর, রামলীলা ময়দান, চলো দিল্লি’। এআইসিসি-র অন্যতম সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল আজ সকালেই দাবি করেছিলেন, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের প্রস্তাবিত ‘জনতার ইমপিচমেন্ট’ কর্মসূচি বানচাল করতে দিল্লি পুলিশকে চাপ দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। জানান, দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দান ব্যবহারের জন্য ২৫ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত সরকারি অনুমতি পাওয়া সত্ত্বেও সপ্তাহান্তে সেখানে কর্মসূচির প্রস্তুতি এবং পরিকাঠামো নির্মাণের কাজ পুলিশ বন্ধ করে দিয়েছে। তিনি বলেন, “সামান্য জমায়েত নিয়েও প্রধানমন্ত্রী মোদী ও অমিত শাহ কেন এতটা ভীত, তা বুঝতে পারছি না। জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে জনতার ইমপিচমেন্টের ঘোষণা করেছি। আগামী ১ নভেম্বর আমাদের মিছিল করার পরিকল্পনা রয়েছে। ২৫ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত রামলীলা ময়দান বুক করা হয়েছে। ওই সময়ের জন্য আমাদের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে। আমরা এখানেই জনতার ইমপিচমেন্ট কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।’’ তাঁর অভিযোগ, পরশু তাঁদের লোকজন পরিকাঠামো তৈরির কাজ শুরু করতে গিয়েছিলেন। পুলিশ তাঁদের আটকে দেয়। বেণুগোপালের কথায়, ‘‘কেন এই কাজ বন্ধ করা হল, তা জানি না। এর অর্থ, এটি দিল্লি পুলিশের সিদ্ধান্ত নয়। প্রধানমন্ত্রী মোদী ও অমিত শাহের সিদ্ধান্ত। তাঁরা জ্ঞানেশ কুমারকেরক্ষা করছেন।”
তবে আগামী রবিবার রামলীলা ময়দান (যেখানে ৫০ হাজার মানুষ ধরে) উপচে যাবে বলেই আশা করেছেন কংগ্রেস নেতারা। উত্তরপ্রদেশ এবং হরিয়ানায় এর আগে একটি করে বৈঠক করা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশে উপস্থিত ছিলেন প্রিয়ঙ্কা গাঁধী বঢরা। দিল্লির লাগোয়া এই দুই রাজ্যের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে ১ জন করে পর্যবেক্ষক পাঠিয়েছেন কংগ্রেস নেতৃত্ব। কত মানুষ আসবেন, কী ভাবে আসবেন, কত গাড়ি লাগবে সেই সব হিসাবে হয়েছে। স্থির হয়েছে ৩০ থেকে ৫০ হাজার মানুষ আগের রাতেই দিল্লি ঢুকে যাবেন। উত্তরপ্রদেশের মুসলিম নেতারাও আসবেন। এসপি-র তরফেও শক্তি প্রদর্শনের নিমিত্ত (সামনেই ভোট) বড় সংখ্যায় সমর্থক-কর্মী আনার চেষ্টা চলছে। সব ঠিকঠাক থাকলে ১ লক্ষ মানুষের সমাবেশে রামলীলায় তিল ধারণের জায়গা থাকবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।